মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার এরশাদ ডিগ্রি কলেজের ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রিটার্নিং ওয়াল । এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-০৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন। এছাড়াও জেলা পরিষদের প্রশাসকের বরাবর অভিযোগ জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এমন ঘটনায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনার অভাব, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং তদারকির ঘাটতির কারণেই এই ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা জেলা পরিষদের অর্থায়নে পুকুরপাড় সংরক্ষণের জন্য ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে এবং এর ঠিকাদারি দায়িত্বে ছিল ‘মেসার্স দীপ্ত এন্টারপ্রাইজ’।
কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাস না পেরোতেই ওয়ালের এক পাশজুড়ে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। পরবর্তীতে সেটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশ ধসে পড়ে সরাসরি পুকুরে গিয়ে পড়ে।
বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুল হাসান নাসিম বলেন, তিন মাস হল রিটার্নিং ওয়াল এর কাজ শেষ হয়েছে কিন্তু গত ৩-৪ দিন আগে সামান্য একটু বৃষ্টি হয়েছে যার কারণে ওয়ালটি ধসে পড়েছে। এটাতে সঠিকভাবে রড ব্যাবহার করা হয়নিম যে কারনে এটাতে কোন শক্ত সাপোর্ট নাই৷ এখন যেটুকু টিকে আছে সেটাও ভেঙে যাবে খুব দ্রুতই।
বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, অতি অল্প সময়ে একটি প্রজেক্ট এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে তা মানতে পারছি না। আমরা জেলা পরিষদ বরাবর ঠিকাদারের বিরুদ্ধে একটু অভিযোগ করেছি । উনারা বলছেন সহযোগিতা হিসেবে পরিবেশন করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।
এই বিষয়ে জানতে মেসার্স দীপ্ত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা পাঁচ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসীম উদ্দীন বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দশ লাখ টাকা পেয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে রিটার্নিং ওয়াল করা হয়েছিল । তিন মাসের মধ্যে ভেঙ্গে পড়েছে । অতি মোনাফা লোভের কারনেই ঠিকাদার কাজের এই অবস্থা হয়েছে । আমি জেলা পরিষদের প্রশাসক আহমেদ বলেছি এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।