খাগড়াছড়িতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়েলা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটিই প্রথম মামলার রায়। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনার মাত্র ১১ মাস ১৪ দিনের মাথায় এ মামলার রায় দেওয়া হলো। মামলা চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জন এবং আসামিপক্ষে ৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত নেয়।
মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা।
তিনি বলেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল এত দ্রুত রায় দিয়ে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই রায়ের ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেদারুল ইসলাম রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভিকটিম রামগড়ের নাকাপা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন দুপুরে মাদরাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে নাকাপা বাজারস্থ ‘মিম হোটেল’ নামক দোকানের সামনে পৌঁছালে দোকানদার মো. শাহিন তাকে ডেকে ভেতরে নিয়ে যান। আসামি পূর্বপরিচিত ও স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় সম্পর্কসূত্রে নাতিন ডেকে প্রথমে তাকে দোকানে বসিয়ে বিস্কুট ও কেক খেতে দেন।
দোকান থেকে বের হতে দেরি হওয়ায় ভিকটিমের সহপাঠীরা তাকে রেখে চলে যায়। পরে দোকানে কোনো ক্রেতা বা লোকজনের উপস্থিতি না থাকার সুযোগে শাহিন ভিকটিমকে দোকানের পেছনের অংশে বেড়ার আড়ালে নিয়ে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় রামগড় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ (১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
জেডএম