হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

কুমিল্লায় ৪ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রবাসীর জায়গা দখলের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামে প্রবাসী পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি জোরপূর্বক দখল করে বসতি স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে চার সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক বিচার, থানা, আদালতের নির্দেশও অমান্য করে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলে রেখে নিজেদের কর্তৃত্ব বহাল রেখেছেন। পাশাপাশি প্রবাসী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও প্রভাব খাটিয়ে চাপে রাখারও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাজীপাড়া গ্রামের মৃত জুনাব আলীর ছেলে মো. সহিদুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা পৈত্রিক সূত্রে ওই জমির মালিক। দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করায় তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী মৃত নুরুল ইসলাম ওরফে লেতা মিয়ার চার ছেলে মো. ফারুক মিয়া, মো. মোজাহিদুল ইসলাম, মো. শামিম মিয়া, মো. আব্দুর রব ও মো. শামছুদ্দিন ধীরে ধীরে জমির একাংশ দখল করে নেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে সীমানা ঘেঁষে সামান্য অংশ ব্যবহার শুরু করলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে সেখানে ঘর, টয়লেট ও টিউবওয়েল স্থাপন করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

ভুক্তভোগী সহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমরা প্রবাসে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জায়গার এক পাশ দিয়ে দখল করতে করতে তারা অনেকটা অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। দেশে এসে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা প্রথমে তাদের সঙ্গে কথা বলি। সামাজিকভাবে বসে মীমাংসার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা কোনো সমাধান মানেনি। বরং উল্টোভাবে আমাদের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে।

তিনি আরো জানান, কোনো উপায় না পেয়ে সরকারি আমিন এনে জমি মাপজোকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি বিধি মোতাবেক জমির সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি বসানো হলে অভিযুক্তরা তা উপড়ে ফেলে। এ সময় বাদীপক্ষকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরবর্তীতে সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে জমিটি তাদের বৈধ মালিকানাধীন বসতভিটা। কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়ার মাঝেই অভিযুক্তদের একজন, যিনি পুলিশ বিভাগের উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত মো. মোজাহিদুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে মামলার কার্যক্রমে বাধা দেন।

সহিদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে যখন স্পষ্ট হলো জায়গাটি আমাদের, তখন অভিযুক্ত এসআই ফোন করে তদন্ত কার্যক্রম থামানোর চেষ্টা করেন। বলা হয়, সামাজিকভাবে সমাধান করা হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং তারা জোরপূর্বক জায়গাটি দখল করে রেখেছে।

এ বিষয়ে জানতে সদর দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক খাজু মিয়া আমার দেশকে বলেন, জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে দেখেছি, জায়গাটি মূলত বাদীপক্ষের বসতভিটা। তবে বর্তমানে সেখানে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুর রব ও তার পরিবার বসবাস করছেন।

তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তারা জায়গাটি কিনে নিতে চান। কিন্তু মূল্য নির্ধারণ ও সমঝোতার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। এ ধরনের বিষয় সাধারণত দেওয়ানি মামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। আমরা সামাজিকভাবে বসে আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। তারা যদি সমাধানে না আসে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা কারও জমি দখল করিনি। সামাজিকভাবে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু আলোচনার মাঝেই বাদীপক্ষ থানায় মামলা করে আমাদের হয়রানি করছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারি চাকরিজীবী। সামাজিকভাবে আমাদের সম্মান রয়েছে। অযথা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। আমাদের সম্মানহানি করার জন্যই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নির্বাচনি পরীক্ষায় ফেল, কলেজের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের তালা

মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগে মানববন্ধন

ভবনে কাজ করার সময় মাচা ভেঙে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

আনোয়ারায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৫

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল

আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: কক্সবাজারে আ.লীগের ৭ ও ৪ পদে বিএনপির জয়

বাঁশখালীতে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

লক্ষ্মীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বিকাশকর্মীর

বিয়েবাড়িতে চাঁদা দাবি, ১৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

রাঙ্গুনিয়ায় ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ, বাড়ছে ভোগান্তি