হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে এবারো পুলিশ সদস্যদের জন্য পশু জবাই, বিশেষ ভোজ

জমির উদ্দিন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের প্রতিটি থানা, ফাঁড়ি এবং পুলিশ লাইন্সে এবারো আলাদা করে পশু জবাই করে বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, নিরাপত্তার পাশাপাশি সদস্যদের কল্যাণ আমাদের অগ্রাধিকার। ঈদের দিনও যারা শহরের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করবেন, তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার-দাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সবাই যেন নিজের পরিবারের মতো খাবার পান।

চট্টগ্রাম নগর, জেলা মিলিয়ে ৭০ শতাংশ পুলিশ দায়িত্বপালন করছেন। ঈদের নামাজ, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ, মানুষের চলাচল নিরাপদ রাখা এবং চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশের কার্যক্রম এ দিন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যাদের ডিউটি তুলনামূলক জরুরি নয়, কেবল তাদেরই সীমিত পরিসরে ছুটি দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ঈদের দিন দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উন্নতমানের খাবারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দুই কোটি তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মধ্যে পুলিশ বাহিনীর জন্য বরাদ্দ থাকে এক কোটি টাকা। বাকি অর্থ বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্ট গার্ডের জন্য বরাদ্দ থাকে। এই বরাদ্দ থেকে ঢাকায় প্রতিটি থানা কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা করে পেয়ে থাকে। তবে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের নিজস্ব কল্যাণ তহবিল এবং ইউনিটভিত্তিক ব্যবস্থাপনায়ও আলাদা করে অর্থ সংগ্রহ করে পশু জবাই করা হয়।

জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, পুলিশ লাইন্সে পশু জবাই করে বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে পশু জবাইয়ের পর রান্না শুরু হবে। দুপুরে সবাই একসঙ্গে মিলিত হয়ে খাবেন। আমি নিজেও তাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকব।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগের ডিসি মো. হাসান মোস্তফা স্বপন জানান, সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি সিএমপির প্রত্যেক থানায় আলাদা করে পশু জবাই করা হয়। থানা, ফাঁড়ি এবং পুলিশ লাইন্স—সব জায়গাতেই আলাদা করে কোরবানি হয়। এতে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত মাংস ও খাবারের ব্যবস্থা থাকে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছারের বলেন, যারা সকাল–দুপুর–রাতে বিভিন্ন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন, সবাই যেন এই ভোজে অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বাকলিয়া থানার ওসি মো. সোলাইমানের বলেন, ঈদের দিন দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জন্য আমাদের থানায় আলাদা করে পশু জবাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকালে ব্রিফিংয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পয়েন্টে সদস্যদের মোতায়েন থাকতে হয়। এজন্য আমরা নিশ্চিত করছি, তারা যাতে শিফটের মধ্যে এসে ঠিকভাবে খাবার খেতে পারে এবং ঈদের আমেজটা কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারে।

চট্টগ্রাম পুলিশে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু সদস্যও কর্মরত রয়েছেন। ঈদুল আযহায় কোরবানির গরু ও ছাগলের মাংস থেকে তৈরি খাবার সবার জন্য পরিবেশন করা হলেও অনেক থানা ও পুলিশ লাইন্সে সংখ্যালঘু সদস্যদের পছন্দ ও ধর্মীয় রীতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে আলাদা ব্যবস্থাও রাখা হয়। কোনো কোনো ইউনিটে তাদের জন্য মুরগি বা মাছের বিশেষ পদ তৈরি করা হয়, যাতে তারাও একইভাবে সহকর্মীদের পাশে বসে উৎসবের দিনটি উদযাপন করতে পারেন।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, সার্বিকভাবে, থানা-ফাঁড়ি থেকে পুলিশ লাইন্স পর্যন্ত এই আয়োজন কেবল খাবারের নয়—এটি একটি বাহিনীর পারস্পরিক সংহতি ও মনোবল টিকিয়ে রাখার প্রতীকও বটে। উৎসবের মাঝে দায়িত্বের বোঝা বহন করা মানুষগুলোর জন্য এই বিশেষ ভোজ অনেকটা পরিবারের বাইরে আরেকটি পরিবারের উষ্ণতার মতোই।

জেডএম

নাতনিকে দেখতে যাওয়ার পথে গাড়ির ধাক্কায় নানার মৃত্যু

বিএনপি নেতার ঈদ শুভেচ্ছা পোস্টার লাগাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

বর্ণিল সাজে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ

সীতাকুণ্ডে অস্থায়ী পশুর হাট বন্ধে মরিয়া ঠিকাদার

জাল চেকে ৪ কোটি টাকা উত্তোলনের চেষ্টা, যুবদল নেতা বহিষ্কার

টানা বৃষ্টিতেও সীতাকুণ্ডে জমজমাট পশুর হাট, মহাসড়কে নেই যানজট

জঙ্গল সলিমপুর: থেমেছে গুলির শব্দ, থামেনি আতঙ্ক

র‍্যাব ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বাকলিয়ায় সহিংসতার ঘটনায় ৫৮ জনকে আসামি করে মামলা

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমপি ও উপজেলা বিএনপি