সিন্ডিকেটের কারসাজিতে এবারো বিপুল পরিমাণ কোরবানি পশুর চামড়া নষ্ট হয়েছে চট্টগ্রামে। গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হাজার হাজার চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যেতে বাধ্য হয় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার সকাল ১১ টার পর থেকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পচন ধরা এসব চামড়া ডাম্পিং করা শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। দুপুর পর্যন্ত আতুরার ডিপো, বহদ্দারহাট ও চৌমুহনী এলাকা থেকে কয়েক ট্রাক পচা চামড়া ডাম্পিং করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চসিক।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সিন্ডিকেট ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে নাম মাত্র টাকায় চামড়া বিক্রির চেয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আর আড়ৎদার সমিতির দাবি, তাদের টার্গেট ছিল চার লাখ চামড়স সংগ্রহ করার। রাতের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন হয়েছে। যেসব ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য দাম ধরে বসে ছিলেন কেবল তাদের কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে।
ফটিকছড়ি থেকে আসা চামড়া বোঝাই গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে থাকা ট্রাক ড্রাইভার আবু তাহের জানান, কাল বিকেলে ফটিকছড়ির কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী তার ট্রাক ভাড়া নিয়ে সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া বোঝাই করে আতুরার ডিপোতে এসেছেন। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এখানে পৌঁছেছেন। বাজার কারসাজির কারণে চামড়া গুলো গাড়ি থেকে নামাননি। গাড়িতে রেখেই বিক্রি করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু যে দাম বলছে তা দিয়ে গাড়ি ভাড়াও উঠছে না। সারা রাত চেষ্টা করো ভোরের দিকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তাকে না বলেই চলে গেছেন এখন চামড়া নিয়ে বিপদে পড়েছেন।
একই কথা জানান, সীতাকুণ্ড থেকে আসা ট্রাক ড্রাইভার মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি জানান রাতে চামড়ার ভাড়া নিয়ে আতুড়ার ডিপোতে এসেছেন, সকাল পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেননি। এরই মাঝে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অল্পকিছু টাকা দিয়ে চলে গেছে। তাদের লোকসান দেখে কিছু বলতে পারেননি। এখন সিটি কর্পোরেশনের লোকজনের সহায়তায় পচা চামড়া নামিয়ে বাজার ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
একই চিত্র দেখা যায় মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চৌমুহনীসহ নগরীর বেশ কিছু এলাকায়। রাস্তার পাশে পড়ে আছে অবিক্রীত শত শত কোরবানি পশুর চামড়া। মূলত মধ্যসত্বভোগীদের কারসাজির কবলে পড়ে এসব চামড়া নষ্ট হয়েছে। এমনকি প্রতি পিস ৫০ টাকা দরেও কেউ এসব চামড়া কিনতে রাজি হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
হালিশহর এলাকার মৌসুমি চামড়া নুরুচ্ছফা জানান, নিয়মিত মুদি দোকানের ব্যবসা করেন তিনি। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে কোরবানি ঈদের দিন দুপুরে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেন। গত ৪/৫ বছর ধরেই বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি চলছে। এবার ২০০ পিচ চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। গড়ে ৪০০ টাকা করে খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে আনার পর কেউ ১৫০ টাকার বেশি দাম বলেনি। সাড়া রাত অপেক্ষা করে ভোরে চামড়া ফেলে বাজার ছেড়েছেন বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন জানান, তাদের লক্ষ্য মাত্রা অনুযায়ী ৪ লাখ পিস চমড়া সংগ্রহ হয়েছে। বিশেষ করে নগরীতে দেড় লাখ এবং উপজেলা পর্যায়ে আরো আড়াই লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। যেসময় মৌসুমি ব্যবসায়ী ব্যবসা না বুঝে সরকার নির্ধারিত দাম না বুঝে ব্যবসা এসেছেন এবং বেশি দামে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে দাম ধরে বসে ছিলেন তাদের কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে।
সকালে আতুড়ার ডিপো এলাকায় চামড়া ডাম্পিং এ নিয়োজিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আবু তাহের সিদ্দিকী জানান, সকালে বর্জ্যের সাথে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পচন শুরু হওয়া বিপুল পরিমাণ চামড়া ডাম্পিং করছেন তারা। কি পরিমাণ চামড়া ডাম্পিং করা হয়েছে তার পরিসংখ্যান নেই বলে জানান তিনি। তবে বেশ কয়েকটি ডাম্প ট্রাক ও ছোট আকারের ময়লাবাহী ভ্যান ভর্তি পচা চামড়া ফেলে দেয়া হচ্ছে।