গত ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষ হয়েছে। সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে ২৩ মার্চ। এখনো চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে অব্যাহত রয়েছে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। বিনোদনপ্রেমী পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ায় উপজেলার পাহাড়, ঝরনা, লেক ও সমুদ্রঘেঁষা স্পটগুলোতে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম।
মিরসরাই উপজেলার পূর্ব পাশে সুউচ্চ পাহাড় আর সেই পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ঝরনার সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। পশ্চিমে দীর্ঘ সমুদ্র উপকূল, উত্তরে ফেনী নদী এবং মাঝামাঝি হ্রদ ও লেক মিলিয়ে প্রকৃতির এক অপূর্ব সমাহার গড়ে উঠেছে এখানে। ঈদের পরেও এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে মহামায়া ইকোপার্ক, খৈয়াছড়া ঝরনা, নাপিত্তাছড়া ট্রেইল, সোনাপাহাড় প্রকল্প, আরশী নগর ফিউচার পার্ক, মুহুরী সেচ প্রকল্প ও ডোমখালী সমুদ্রসৈকতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে খৈয়াছড়া ও মহামায়া এলাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।
আরশী নগর ফিউচার পার্কের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, “ঈদের পরও দর্শনার্থীদের চাপ কমেনি। প্রতিদিনই পরিবার নিয়ে অনেক মানুষ আসছেন। আমরা নিরাপত্তা ও বিনোদনের সব ব্যবস্থা সচল রেখেছি।”
সোনাপাহাড় প্রকল্পের কর্মকর্তা জানান, “ঈদের ছুটি শেষ হলেও পর্যটকদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। আমরা নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখছি, যাতে কেউ ভোগান্তিতে না পড়েন।”
খৈয়াছড়া ঝরনার লিজ গ্রহীতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিনই প্রচুর পর্যটক আসছেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য গাইড ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ঝরনা এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পরও পর্যটকদের উপস্থিতি থাকায় তাদের ব্যবসা ভালো চলছে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পরিবহন খাতে বাড়তি চাঙ্গাভাব দেখা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া আক্তার বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে। কোথাও যেন বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মিরসরাইয়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঈদের পরও এমন পর্যটক সমাগম স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে মিরসরাই দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।