চট্টগ্রামের রাউজানে গত বছরের ২৫ অক্টোবর একদল অস্ত্রধারীদের গুলিতে ঘটনাস্থলে খুন হয়েছিলেন মুহাম্মদ আলমগীর আলম (৪৫) নামের যুবদলের এক কর্মী। সেসময় তার সঙ্গে মোটরসাইকেলের পেছনের আসনে থাকা সহযোগী মুহাম্মদ রিয়াদ (২৫) নামের তার এক আত্মীয় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ ৩ মাস ১০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি আজ মারা গেছেন।
নিহত রিয়াদ ওই ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে এবং নিহত যুবদলকর্মী আলমগীর আলমের একই বাড়ির বাসিন্দা ও আত্মীয় হোন সম্পর্কে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে তিনি মারা যান বলে নিশ্চত করেন তার পরিবার ও পুলিশ। নিহত রিয়াদের বাড়ি রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান গ্রামে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে বাড়িতে ফেরেন রিয়াদ। এরপর আসা যাওয়ার মাধ্যমে তার চিকিৎসা চলছিলো বলে জানিয়েছে পরিবার।
এরআগে গত ২৫ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রাউজানের চারাবটতল বাজারসংলগ্ন কায়কোবাদ জামে মসজিদের সামনে একদল অস্ত্রধারী আলমগীর আলম নামের ওই যুবদল কর্মীকে আত্মীয় বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে আসার পথে গুলি করে হত্যা করেন। এসময় রিয়াদ পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ওয়ার্ডের কায়কোবাদ জামে মসজিদের কবরস্থানে লুকিয়ে থাকা আটজন অস্ত্রধারী আলমগীরকে লক্ষ্য করে সেসময় গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলেই আলমগীর আলমের মৃত্যু হয়। অস্ত্রধারীরা তাকে হত্যার পর রাঙামাটি সড়ক দিয়ে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
নিহত আলমগীরের শরীরে ৫ টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেসময় গুলিবিদ্ধ রিয়াদের পিটেও একাধিক গুলি লাগে।
এই ঘটনার ১৮ দিন আগে আগে ৭ অক্টোবর রাউজান উপজেলার বিএনপি কর্মী ও হারবাল ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে (৫২) রাউজানের বাগোয়ান খামার বাড়ি থেকে ফেরার পথে হাটহাজারীর মদুনাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ২০০ মিটার দূরে মদুনাঘাট সেতুর গোড়ায় চলন্ত (কারে) গাড়িতে গুলি করে হত্যা করে একদল অস্ত্রধারী। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই উপজেলায় আলমগীর আলম হত্যার ঘটনাটি ঘটেছিল।
এরপর সর্বশেষ রাউজানে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এ বছরের ৫ জানুয়ারি উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ৩০০ মিটার দূরত্বের সিকদার পাড়া গ্রামে। সেদিন রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় মোটরসাইকেল আরোহী একদল অস্ত্রধারী জানে আলম (৪৮) নামের এক যুবদলনেতাকে গুলি করে বাড়ির সামনে ফেলে পালিয়ে যায়। তার বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। তবে এক মাসেও এ হত্যাকাণ্ডের কোন কারণ এবং কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ২৫ অক্টোবর অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত যুবদলকর্মী আলমগীর আলমের আত্মীয় রিয়াদ ৩ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলো। তার পিটে একাধিক গুলি লোগেছিলো সেসময়।
ওই ঘটনায় কয়েকজনকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করলেও তাদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে আসে। তবে পুলিশ প্রকৃত হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া অস্ত্রধারীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।