‘আমি জান্নাতে যাবো নাকি হুজুররা যাবে; তা আল্লাহই ভালো জানে। এটা আমি বলতে পারি না। আমরা ওয়াজ-মাহফিল দিলে কোনো লোক হয় না। কিন্তু গানের আসরে হাজারও দর্শক হয়। তাহলে আমরা গানের আসরই দেই, ওয়াজ দিয়ে কী লাভ।’ এভাবেই কথাগুলো বলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলা কলাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. ছাবিকুল ইসলাম।
রোববার রাতে কলাকান্দি ইউনিয়নের কালাচাঁনকান্দি গ্রামে আয়োজিত এক বাউলগান মঞ্চে সভাপতির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করেন নেটিজেনরা।
বিএনপি নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম সরকার। তিনি লিখেছেন, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। গান করবে এটা যার যার মনের ব্যাপার। কিন্তু ধর্ম আর আলেমদের নিয়ে ছোট করে কথা বলবে এটা মেনে নেয়া যায় না। একজন ইসলাম ধর্মের লোক হয়ে আমি এর প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। নতুবা সকল আলেমরা এর প্রতিবাদ করবেন ইনশা আল্লাহ।’
আরেক পোস্টে নুর মোহাম্মদ ফারুকী লিখেছেন, যিনি হারামকে হালাল মনে করেন তিনি কাফের। কিছুদিন আগে আপনার ছেলে কুরআনে হাফেজ হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। আর আপনি বেশ্যা মেয়ে ও ছেলে নিয়ে গানবাজনা শুরু করছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, বিএনপি নেতা ছাবিকুল হলেন আওয়ামী লীগের দোসর। তিনি বিগত সময়ে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। এমন অভিযোগ প্রমাণসহ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ ভুলুর কাছে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাবিকুল বলেন, কিছুদিন আগে আমি একটি মাহফিল দিয়েছি। কিন্তু সেখানে মুসল্লিদের বাধা দেয়া হয়েছে। অথচ গানের আসরে হাজারও লোক হয়েছে। আমি এই কথাটাই বোঝাতে চেয়েছি। তবে বক্তব্যটি কেউ এডিট করে ফেসবুকে ছেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।