হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

অবৈধ রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন রেলের জিএম

চট্টগ্রাম ব্যুরো

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় একটি অবৈধ রেলক্রসিংয়ে ইনস্পেকশন গাড়িকে পিকআপের ধাক্কার ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন।

শনিবার (৩ মে) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পিকআপের ধাক্কায় ইনস্পেকশন গাড়ির চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের রেলওয়ের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জিএমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা লাকসাম থেকে নোয়াখালী রুটে পরিদর্শনে ছিলেন। এ সময় সোনাইমুড়ী এলাকার একটি অবৈধ রেলক্রসিংয়ে একটি পিকআপ গাড়ি ইনস্পেকশন গাড়িকে ধাক্কা দেয়।

তিনি বলেন, জিএম সাহেবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সৌভাগ্যক্রমে অক্ষত রয়েছেন। তবে গাড়িচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথটি দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ ও অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। গত পাঁচ বছরে এই রুটে চারটি দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এর মধ্যে ২০২৩ সালের ১৯ মে লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এক স্কুলশিক্ষক নিহত হন। একই বছরের ২ অক্টোবর লাকসাম পৌর এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় আরও একজন শিক্ষকের মৃত্যু হয়।

সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর আবা রেলপথটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পূর্বাঞ্চলে অবৈধ ক্রসিং: সংখ্যায় বেশি, ঝুঁকিও বেশি

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ১ হাজার ৪৮৮টি ক্রসিংয়ের মধ্যে ৭২৯টি বৈধ এবং ৭৫৯টি অবৈধ। মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথসহ মেইনলাইন রেলপথ-সংলগ্ন ভূমি উন্নয়নের ফলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে এসব ক্রসিং তৈরি করেছেন। দেশের দুই প্রধান বিভাগের মধ্যে পূর্বাঞ্চলেই ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ ক্রসিং সবচেয়ে বেশি।

চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত মাত্র ৪০ কিলোমিটার রেলপথেই অবৈধ ক্রসিংয়ের সংখ্যা ৪৭। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার পথে বৈধ লেভেল ক্রসিং মাত্র ১৪টি, অথচ অবৈধ ক্রসিং ৬৪টি।

কুমিল্লা অঞ্চলের প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার রেলপথে ১১৬টি অরক্ষিত ক্রসিং রয়েছে। গত পাঁচ বছরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অন্তত ৩৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

কুমিল্লার রেলপথে ২০১৭থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেদ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসাব কেবল রেলওয়ে পুলিশের নথিভুক্ত মৃত্যুর। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সারা দেশের চিত্রও ভিন্ন নয়। রেলের হিসাবে, ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রেলে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২২১ জন, যার মধ্যে ১৮৭ জনই মারা গেছেন রেলক্রসিংয়ে। অর্থাৎ মোট প্রাণহানির প্রায় ৮৫ শতাংশই ঘটেছে রেলক্রসিংয়ে।

অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করার চেষ্টা করেও বারবার স্থানীয় প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে। কয়েক বছর আগে রেল প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে অবৈধ ক্রসিংগুলো কাঠ অথবা পুরোনো রেলপথ দিয়ে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয়রা সেসব প্রতিবন্ধকতা খুলে নেয়। অনেক স্থানে অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করতে গিয়ে বাধার মুখে ফিরে আসতে হয় রেলওয়ে প্রশাসনকে।

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়ও একই ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন রেলকর্মীরা। বিক্ষুব্ধ জনতা রেলপথ অবরোধ করে দুটি ট্রেন প্রায় ২০ মিনিট আটকে রাখেন। শেষপর্যন্ত অবৈধ ক্রসিংটি বন্ধ না করেই ফিরে যেতে হয় রেলকর্মীদের।

গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের গণমিছিল

মহালছড়িতে বিদ্যুৎস্পর্শে আনসার সদস্যের মৃত্যু

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফুলগাজীর আনোয়ারের পিএইচডি অর্জন

পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকের মৃত্যু

জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ১১ দলীয় ঐক্যর বিক্ষোভ

নির্বাচনের পর মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে: মুফতি আবদুল হান্নান

রান্নাঘরের গরম পানিতে ঝলসে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামে ফের জলাবদ্ধতা, বাঁধ অপসারণের পরও কোমরপানি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন

পৃথক অভিযানে হত্যা মামলার আসামি ও তিন অপহরণকারী গ্রেপ্তার