হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

মেঘনা উপকূল ঘিরে লক্ষ্মীপুরের পর্যটন স্পট, লোকে লোকারণ্য

জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর

ছবি: আমার দেশ

লক্ষ্মীপুরের একেবারে উপকূলীয় জনপদ রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা। এছাড়া সদর উপজেলার কিছু অংশও উপকূলীয় এলাকা। বিশাল মেঘনা নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই চার জনপদে প্রকৃতি যেন উদার হাতে বিলিয়েছে সৌন্দর্য। অব্যাহত নদীভাঙনের শিকার রামগতির পৌর শহর চর আলেকজান্ডারের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে উত্তাল মেঘনা।

উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে নদীর পাড়ে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ জলরাশি। একই চিত্র কমলনগর উপজেলার মাতাব্বর হাট, মতির হাট এবং নাছিরগঞ্জ মেঘনাপাড়ের।

সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট ও রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের আলতাফ মাস্টারঘাট, হায়দরগঞ্জ এলাকার সাজু মোল্লার ঘাট— সবই মেঘনার তীর ঘেঁষে। এসব এলাকার ভাঙন রোধে নির্মিত শক্ত বাঁধ এখন শুধু সুরক্ষাই দিচ্ছে না, তৈরি করেছে নতুন এক প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র। বাঁধের ওপর দাঁড়ালে যত দূর চোখ যায়, শুধু পানি আর পানি। জোয়ার–ভাটার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে কিনারে। নদীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া বাতাসে ভেসে আসে একধরনের নির্মল প্রশান্তি। পিনপতন নীরবতার মাঝে বাতাসের মৃদু শব্দ যেন মন জুড়িয়ে দেয় আগত দর্শনার্থীদের।

বিকেল গড়ালে পশ্চিম আকাশে রক্তিম সূর্যাস্ত আর নদীর ঢেউ মিলিয়ে তৈরি হয় এক অপার্থিব দৃশ্যপট। সোনালি আলো নদীর জলে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। প্রকৃতির এমন রূপ কাছ থেকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে হাজারো মানুষ। ঈদের ছুটিতে এসব স্পটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

নদীর পাড়ে জেগে ওঠা নতুন বেলাভূমি, ঢেউয়ের ছন্দ, জলের মিষ্টি সুর—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীরা খুঁজে পান অন্যরকম এক প্রশান্তি। বাতাসের দোলায় শরীর ও মন জুড়িয়ে যায় মুহূর্তেই। অনেকের কাছেই এটি এখন ‘স্বল্প খরচে স্বর্গীয় ভ্রমণ।

এ অঞ্চলে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষ ছুটে আসছেন এখানে। ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজে প্রাণচাঞ্চল্য বেড়েছে কয়েক গুণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় করছেন মেঘনার পাড়ে। কেউ নৌকাভ্রমণে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউবা পরিবার নিয়ে ছবি তুলছেন বালুচরে। শিশুদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের স্বস্তি—সব মিলিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

মেঘনার পাড়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, জেলা শহরে ভালো কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। সিনেমা হলগুলোও বহু বছর ধরে বন্ধ। শহরের একঘেয়ে জীবন থেকে বের হয়ে নদীর পাড়ে এসে দারুণ স্বস্তি লাগছে। এখানকার প্রকৃতি সত্যিই মন ভরিয়ে দেয়।

তারা আরো বলেন, জেলায় ভালো কোনো পার্ক নেই। ঈদে বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও যাওয়ার সুযোগ হয় না। মেঘনা পাড়ই এখন প্রধান বিনোদনস্থল। তবে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা ও অবকাঠামো আরও উন্নত করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জরুরি।

রামগতি-কমলনগর বাঁচাও মঞ্চের আহবায়ক আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, গত ৩০ বছরে মেঘনা উপকূলের ভাঙনে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার মানুষের বাড়ি ঘর। সেই উত্তাল মেঘনা আজ অভিশাপ থেকে আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ঈদের আনন্দ পেতে ছুটে আসছে। এ এক অন্যরকম গল্প। মেঘনা উপকূল এখন পর্যটনের একটি বিশাল অংশ।

জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, চারটি উপজেলার মানুষের কাছে মেঘনা পাড় এখন অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র। ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ট্রলার ও স্পিডবোটে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে আ. লীগ নেতার হামলা, নারীদের শ্লীলতাহানি

মাসুদ চৌধুরীর গ্রেপ্তারের খবরে ফেনীতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ

আওয়ামী লীগের মতো জনরায়কে ভয় পায় বিএনপি: মিয়া গোলাম পরওয়ার

১৭ বছরে মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি হয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

মিরসরাইয়ের বিনোদন স্পটে পর্যটকের ঢল

এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকের

জামায়াত নেতাকর্মীদের ‘মেরুদণ্ডহীন’ বললেন ছাত্রশক্তি নেত্রী

বৃদ্ধকে বাঁচাতে খাদের কিনারায় বাস, রক্ষা পেল অর্ধশতাধিক যাত্রীর প্রাণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে ১০ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, দুইজন নিহত

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা আসলাম চৌধুরীর