কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় জ্বালানি তেল মজুদ করে ‘তেল নেই’ লেখা টানিয়ে রাখার অভিযোগে তিনটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মে চারটি মামলায় মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি মনিটরিং করতে গিয়ে কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে অনিয়মের চিত্র ধরা পড়ে। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পাম্পগুলোর ট্যাগ অফিসার জসিম উদ্দিন, রাসেল উদ্দিন ও মেহেদী হাসান, বিএসটিআই প্রতিনিধি এবং স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে কুতুপালং এলাকার মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশন লিমিটেডে প্রতি ১০ লিটারে প্রায় ৩০০ মিলিলিটার জ্বালানি কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরে পালংখালী এলাকার “ইউসুফ অ্যান্ড ব্রাদার্স” ফিলিং স্টেশনে তথ্য গোপন করে অতিরিক্ত ৫ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রাখার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া মরিচ্যা এলাকার মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশন লিমিটেডে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুদ এবং মিটার রিডিংয়ে ত্রুটির অভিযোগে দুটি পৃথক মামলায় মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা এবং জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, “কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, তেল মজুদ করে ‘তেল নেই’ লেখা প্রদর্শন এবং মাপে কম দেওয়ার মতো অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”