সিলেটে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন র্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের আশ্চর্য পাড়ায় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরের কিন ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, দুপুর প্রায় ১২টার দিকে সিলেট শহরের কিন ব্রিজ এলাকায় একদল মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ইমন আচার্য ছুরিকাঘাতে আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থল থেকে আসাদউল আলম বাপ্পী নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতের কাকা হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট পশ্চিম ধলই উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক প্রাণজিৎ আচার্য জানান, ইমন আচার্য মাত্র তিন মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে সে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল, এরপর আবার কর্মস্থল সিলেটে ফিরে যায়। আজ দুপুরে তার মৃত্যুর খবর পাই।”
নিহতের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে বাবা-মা, স্ত্রী, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। নববিবাহিতা স্ত্রী স্বামীর মরদেহ গ্রহণের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইমন আচার্য ছিলেন মিশুক প্রকৃতির ও সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ। তার অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, “কিন ব্রিজ এলাকায় কয়েকজন মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা র্যাব সদস্য ইমন আচার্য একজনকে আটক করেন। তখন ওই ব্যক্তি তাকে ছুরিকাঘাত করে।”
তিনি আরও বলেন, আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আসাদউল আলম বাপ্পীকে আটক করা হয়েছে।
নিহত র্যাব সদস্য ইমন আচার্যের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।