ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচনি পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও এস এন তরুণ দে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ানোয় চরম চাপের মুখে পড়েছেন জোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ এবং বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এ অবস্থায় বিএনপির শীর্ষ মহল তাদের সঙ্গে সমঝোতার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এই আসনে বিএনপির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রচারণায় বেশি সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরো অভিযোগ উঠেছে, রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের যেভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেই তুলনায় এস এন তরুণ দে’র পক্ষে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় টিকিট না পাওয়ায় সাবেক ও বর্তমান একাধিক স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি ইউনিটগুলোতে স্পষ্ট বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এতে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বিএনপির সামগ্রিক নির্বাচনি সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বিএনপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির নেতারা বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় পদে থেকে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় অনেক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে জোটপ্রার্থীর সঙ্গে করা রাজনৈতিক সমঝোতা ও প্রতিশ্রুতি বিএনপি যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে, জোটের আসন ভাগাভাগির চুক্তির আওতায় যে আসন জোটসঙ্গীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেই আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে থাকায় জোটের ভেতরে অস্বস্তি বাড়ছে। এতে ভোট বিভাজন এবং সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
জানা গেছে, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় সরাইল উপজেলা বিএনপি অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে। তবে বহিষ্কৃতদের বড় একটি অংশ এখনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দলীয় ও জোটসমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।