হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

আওয়ামী আমলে ২৩ কর্মকর্তার নিয়োগ-পদোন্নতিতে জালিয়াতি

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ চা বোর্ডে আওয়ামী লীগ আমলের বিভিন্ন সময় পদোন্নতি পাওয়া মোট ৩৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ২৩ জনের ক্ষেত্রেই নিয়ম-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। কেউ সাবেক আইজিপির পালিত পুত্র পরিচয়ে আবার কেউ তৎকালীন সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপির আত্মীয়স্বজন কিংবা দলের সুপারিশে বাগিয়ে নেন নিয়োগ ও পদোন্নতি। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য, যা দেখে বিস্মিত খোদ তদন্তকারী কর্মকর্তা থেকে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও। কারণ, নিয়ম লঙ্ঘন করে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়া ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে চা বোর্ডের নীতিনির্ধারকসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাও রয়েছেন।

এদের মধ্যে পরিচালক, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উপপরিচালকও রয়েছেন। এর বাইরে বেশকিছু নিয়োগে কোনো ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে পারেননি তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ফলে ওই সব নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে—এমন সন্দেহ হলেও দালিলিক প্রমাণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী আমলের পুরোটা সময় চা বোর্ড ছিল ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য, আন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অভ্যন্তরীণ তদন্তে যার একাংশ বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু এ রিপোর্টও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এখন।

চা বোর্ডের অভ্যন্তরীণ তদন্তের দুটি প্রতিবেদন আমার দেশ-এর হাতে এসেছে, যার একটিতে রয়েছে কীভাবে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে নিয়োগ ও পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। অন্যটিতে উঠে এসেছে ভূতুড়ে ও ভুয়া শ্রমিকের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাটের চিত্র। এর বাইরে বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ লুটপাটসংক্রান্ত একাধিক ফাইলের সন্ধান মিলেছে, যেখানে এক সময়ের অভিজাত ও সম্ভাবনাময় শিল্পটি কীভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে—সে চিত্রও ফুটে উঠেছে।

পদোন্নতিসংক্রন্ত অনিয়ম

বাংলাদেশ চা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ টি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) এবং প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের (পিডিইউ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, আত্তীকরণ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। গত বছরের ১৬ নভেম্বর একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে মোট ৩৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে কমিটি। টানা চার মাসেরও বেশি সময় তদন্ত শেষে গত ৩০ মার্চ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে ৩৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১৮ জনের পদন্নতিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। চারজনের নিয়োগসংক্রান্ত সব ডকুমেন্ট গায়েব ও একজনের অভিজ্ঞতা সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিয়ম লঙ্ঘন করে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—পিডিইউএর পরিচালক ড. একেএম রফিকুল হক, বিটিআরআইয়ের তিনজন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা যথাক্রমে ড. মোহাম্মদ মাসুদ রানা, ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন, ড. শেফালী বুনার্জী, বিটিআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মশিউর রহমান আকন্দ, বিটিবির সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা রানা বড়ুয়া, বিটিবির উপপরিচালক (পরিকল্পনা) সুমন সিকদার, উপপরিচালক (বাণিজ্য) মুহাম্মদ মদহুল কবির চৌধুরী।

কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন—বিটিআরআইয়ের স্টোরকিপার মুকুল কুমার রায়, পিডিইউএর উচ্চমান সহকারী দিলিপ কুমার, বিটিবির পরিসংখ্যান সহকারী আরিফুর রহমান, বিটিবির স্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর ইয়াছিন আরাফাত, বিটিআরআইয়ের উচ্চমান সহকারী রাশেদুল ইসলাম এবং বিটিবির উচ্চমান সহকারী ইমরান হোসেন, আল আমিন, মোয়াজ্জেম হোসেন ও পিডিইউর অফিস সহায়ক শাকের আলী, সার্ভেয়ার রুবেল হোসেন।

জানা গেছে, পিডিইউর পরিচালক ড. একেএম রফিকুল হক আওয়ামী সরকারের দাপুটে পুলিশপ্রধান জঙ্গি নাটকের অন্যতম কারিগর একেএম শহীদুল হকের পালিত পুত্র। শহীদুলের প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১ নম্বর সিলেকশন কমিটির সভায় উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে ৫০ ভাগ সরাসরি নিয়োগ আর ৫০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। সেক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ওই পদে দুজনের বেশি পদোন্নতির সুযোগ ছিল না। কিন্তু সাবেক পুলিশপ্রধান একেএম শহীদুল হকের প্রভাবে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে রফিকুল হককে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

এছাড়া ২০১৭ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু ওই সময় চাকরিবিধি মেনে তিনি ছুটি নেননি। এমনকি পিএইচডির কোনো থিসিস জমা দেননি। তাই তার ডিগ্রির যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠির উত্তর এখনো আসেনি। এ অবস্থায় বিটিবি পদোন্নতি আদেশে তার জন্য প্রযোজ্য অংশটুকু বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া বিটিআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষিতত্ত্ব) ড. মোহাম্মদ মাসুদ রানা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কীটতত্ত্ব) ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (পরিসংখ্যান) ড. শেফালী বুনার্জী, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদবিজ্ঞান) মো. মশিউর রহমান আকন্দকে সরাসরি নিয়োগযোগ্য শূন্যপদে মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র বা অনুমতি ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ব্যতীত বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এমনকি সিলেকশন কমিটির সভায় বিটিআইয়ের পরিচালকের স্বাক্ষর পর্যন্ত নেই, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। তাই পদোন্নতি আদেশে তাদের জন্য প্রযোজ্য অংশটুকু বাতিল করার সুপারিশ করে কমিটি।

সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পেতে হলে পরিসংখ্যান, অর্থনীতি বা গণিতে কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। কিন্তু চা বোর্ডের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর থেকে সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া রানা বড়ুয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়নি।

জনসংযোগ ও শ্রমকল্যাণ কর্মকর্তা থেকে ঊর্ধ্বতন বিপণন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পাওয়া মুহাম্মদ মদহুল কবির চৌধুরী ও ভূমি নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা থেকে পদোন্নতি পাওয়া সুমন শিকদারের ক্ষেত্রেও যথাযথ বিধিবাধান অনুসরণ করা হয়নি। তবে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে অন্যান্য শর্ত পূরণ করায় বিষয়টি চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের জন্য পাঠিয়েছে তদন্ত কমিটি।

এছাড়া বিটিআরআইয়ের গুদামরক্ষক থেকে মুকুল কুমার রায় নিয়মানুযায়ী ফিডার পদের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও স্টোরকিপার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর দিলিপ কুমার রায় গোপনীয় অনুবেদন অনুশাসনমালা, ২০২৩ ভঙ্গ করে এসিআর দাখিল করে উচ্চমান সহকারী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা সম্পর্ণ বিধিবহির্ভূত।

অফিস সহকারী থেকে এক লাফে পরিসংখ্যান সহকারী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন আরিফুর রহমান। নিয়ম অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকার কথা থাকলেও তার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি।

উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা, ২০২০ যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই স্টেনোটাইপিস্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর থেকে স্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে পদোন্নতি পান ইয়াছিন আরাফাত। বর্তমানে তিনি চা বোর্ডের চেয়ারম্যানের পিএর দায়িত্বে আছেন। একই বিধি লঙ্ঘন করে অফিস সহকারী থেকে উচ্চমান সহকারী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় রাশেদুল ইসলামকে। তদন্ত কমিটি তাদের সবার পদন্নতিসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছে।

নিয়ম লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়ায় বিটিবির উচ্চমান সহকারী ইমরান হোসেন ও আল আমিনের কাছ থেকে অগ্রিম দুটি ইনক্রিমেন্ট বাবদ গৃহীত অর্থ কর্তন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

উচ্চমান সহকারী মোয়াজ্জেম হোসেনের ক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। চা বোর্ডের অফিস সহায়ক শাকের আলীকে আবার পিডিইউর অফিস সহায়ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাকে পিডিইউর জনবল থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ১৪তম গ্রেড থেকে কোনো ধরনের সরকারি আদেশ ছাড়াই সার্ভেয়ার রুবেল হোসেনকে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চাকরিবিধির তোয়াক্কা করা হয়নি। তাই তাকে দশম গ্রেড দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ভূমি নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা দিদারুল মওলা, গবেষণা কর্মকর্তা নুজমুল আলম, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আফরিদা ইয়াসমিন এবং উচ্চমান সহকারী জুলেখা খাতুনের নিয়োগ খাতা, নম্বর শিটসহ কোনো ডকুমেন্ট খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। তাই তাদের নিয়োগে সরাসরি দুর্নীতি হয়েছে কি না তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করতে না পারলেও ডকুমেন্ট গায়েব হওয়ার ঘটনাকে রহস্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এছাড়া অর্থনীতিবিদ জিএম আহসান হাবিব চা বোর্ডে যোগদানের আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করেছেন। কিন্তু চা বোর্ডে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অভিজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য হবে কি না—জানতে চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট

দেশে সরকারি মালিকানাধীন চারটি চা বাগান রয়েছে। এগুলো হলো—নিউ সমনবাগ চা-বাগান, পাথারিয়া চা-বাগান, দেওরাছড়া চা-বাগান ও কাশিপুর চা-বাগান। তিন হাজার ২৯৬ একর আয়তনের বাগানগুলোয় দুই হাজার ৫৬৮ শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাগানটির নাম নিউ সমনবাগ চা-বাগান। এখানে কাজ করেন এক হাজার ৮২০ শ্রমিক।

চা বোর্ড সূত্র জানায়, সরকারি বাগানগুলোয় ভুয়া শ্রমিকের নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো এ অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নেয় চা বোর্ড। এজন্য প্রাথমিকভাবে নিউ সমনবাগকেই বেছে নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে সবগুলো বাগানে এ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করার কথা থাকলেও বর্তমানে উদ্যোগটি থমকে আছে। গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিন সমনবাগ চা-বাগানে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যার একটি কপি আমার দেশ-এর হাতে এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এক হাজার ৮২০ শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ৩১৫ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। এর বাইরে এক হাজার ১৬০ শ্রমিক-কর্মচারীর নিয়োগপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের মিল নেই। ৮০ শ্রমিকের বয়স ৬০ বছরের বেশি। খাতা-কলমে তাদের অবসরে যাওয়ার কথা অনেক আগে। কিন্তু নিয়মিত শ্রমিক হিসেবে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন এখনো। এছাড়া আরো ১৭০ জন ভুয়া নাম-ঠিকানায় বেতন তুলছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

এদিকে দ্বীপনারায়ণ, কবিতা, শচীন ও সুজন নামে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু সরকারি খাতায় সক্রিয় শ্রমিক হিসেবে তারা এখনো নিয়মিত বেতন তুলছেন। এই বাগানেই এমন মৃত, অবসরপ্রাপ্ত ও অস্তিত্বহীন শ্রমিক মিলিয়ে অন্তত ৪০ জনের সন্ধান পেয়েছে চা বোর্ডের তদন্ত কমিটি।

চা বোর্ড বলছে, এসব ভুয়া ও ভূতুড়ে শ্রমিকের পেছনে বেতন, বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, রেশন, বাগানের জমি বরাদ্দ মিলিয়ে শুধু একটি বাগানে মাসে কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারকে। চা বোর্ডের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা আর বাগানের পঞ্চায়েত সমিতির নেতারা এসব ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছেন।

তদন্ত কমিটি ও চা বোর্ডের বক্তব্য

সূত্র জানিয়েছে, দুটি অভিযোগই প্রমাণ হয়েছে। তদন্ত শুরুর আগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখন তা থেমে গেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা তদন্ত প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

দুটি তদন্ত কমিটির প্রধান বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন জানান, সমনবাগ চা-বাগানে ভুয়া শ্রমিকের নামে টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ এবং চা বোর্ডের বিভিন্ন নিয়োগ-পদোন্নতিসহ একাধিক অভিযোগের তদন্ত করেছিলাম। দুটি ঘটনায়ই কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে, যা প্রতিবেদন আকারে তথ্যপ্রমাণসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সেটা জানা নেই বলে জানান তিনি।

এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত বলতেও অপারগতা প্রকাশ করেন মোয়াজ্জম হোসাইন। তিনি বলেন, তদন্তে যা পাওয়া গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। তারাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন আহমেদের অফিসে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালেও জবাব দেননি।

‘শাওনের মতো মানুষকে বহিষ্কার করলে বুঝতে হবে বিএনপি বদলে গেছে’

পরীক্ষায় উত্তরপত্র না দেখানোয় সহপাঠীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

কুমিল্লায় তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা

তনু হত্যায় আরেক সন্দেহভাজনের সন্ধান

চট্টগ্রামে এবার জুলাই গ্রাফিতি নিয়ে ছাত্রদল-এনসিপি মুখোমুখি

প্রধানমন্ত্রীর পথসভার মাইক খুলে নেওয়ার অভিযোগ এসপির বিরুদ্ধে

সরকার ‘নির্লজ্জভাবে’ স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক বৈষম্যে যাত্রা শুরু করেছে

চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগে ডেপুটি সিভিল সার্জনসহ সাতজনকে বদলি

আমার দেশ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

রামুতে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার, আটক ১