হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থবিরতা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম

ফাইল ছবি

এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টি, নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা ও সমুদ্র উত্তাল থাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ও ইয়ার্ডে ডেলিভারি কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বহির্নোঙরে পণ্য হ্যান্ডলিং চলছে ধীরগতিতে। এর ফলে নানা ধরনের পণ্য বোঝাই অন্তত ৬০টি মাদার ভ্যাসেল সাগরে অলস ভাসছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় লাইটার জাহাজও চলছে না। ফলে অভ্যন্তরীণ রুটে পণ্য পরিবহনও থমকে গেছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমদানি নির্ভর নিত্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গত কয়েকদিন ধরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি কমেছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে সাত থেকে আট হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হতো, এক সপ্তাহ ধরে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও অতিবৃষ্টির কারণে ঠিকভাবে ইকুইপমেন্ট মুভমেন্ট করতে না পারায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি কমেছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দৈনিক চার থেকে সাড়ে চার হাজার কন্টেইনার ডেলিভারি হতো, এখন সেখানে দৈনিক গড়ে আড়াই হাজার কন্টেইনার পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে। সড়কের ওপর পানি ও যানজটের কারণে ডিপো থেকে বন্দর কিংবা বন্দর থেকে ডিপোতে কন্টেইনার আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও সংকট তৈরি হয়েছে।

বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী জানান, কন্টেইনার ডেলিভারি, স্থানান্তর ও জাহাজিকরণ গতি কমলেও চলমান রয়েছে। কিন্তু বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থে নোঙর করা জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে কিছুক্ষণ কাজ হয়, বৃষ্টি শুরু হলে ফের কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এভাবে গড়ে সাত দিনে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পণ্য খালাস কমেছে বলে জানান তিনি।

এর চেয়েও খারাপ অবস্থা তৈরি হয়েছে বহির্নোঙরে। বন্দর কার্যক্রমের প্রায় ৮০ শতাংশই পরিচালিত হয় গভীর সাগরে। বন্দরের ভাষায় যাকে বহির্নোঙর বলা হয়। বড় বড় মাদার ভ্যাসেলে আমদানি করা পণ্য ছোট আকারের লাইটার জাহাজে করে খালাস করা হয় সেখান থেকে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় সেখানে পণ্য খালাস ব্যাহত হচ্ছে। ৬০টির বেশি মাদার ভ্যাসেল পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করলেও পণ্য হ্যান্ডলিং করতে পারছে না। বৃষ্টির পাশাপাশি সাগর উত্তাল থাকায় লাইটারেজ জাহাজগুলো পণ্য নেওয়ার জন্য মাদার ভ্যাসেলের কাছে ভিড়তে পারছে না। পাঁচ শতাধিক লাইটার জাহাজ কর্ণফুলী নদী এবং উপকূলে নোঙর করে আছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ জানান, প্রতিটি মাদার ভ্যাসেলের জন্য প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ডেমারেজ চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা।

গত এক সপ্তাহ ধরে মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটারেজ জাহাজে কোনো পণ্য স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি বললেই চলে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নৌরুটে পণ্য পরিবহনও স্বাভাবিক হবে না। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের সংকট হতে পারে। বর্তমানে যে জট তৈরি হচ্ছে তা আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পরও কয়েকদিন স্থায়ী হবে। এ সময় ম্যানেজমেন্ট চ্যালেঞ্জিং হবে। প্রভাবশালী আমদানিকারকরা তাদের পণ্য আগে খালাস করতে চাইবে। প্রাধান্য বিবেচনায় পণ্য খালাসের রূপরেখা নির্ধারণ না করলে সংকট বাড়বে বলে জানান তিনি।

বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে তৈরি পোশাক শিল্পেও। বিজিএমইএর পরিচালক এমডিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কারখানা থেকে অফডকে কিংবা বন্দরের ইয়ার্ডে কন্টেইনার পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন অফডক ও বন্দরের ইয়ার্ডে পানি জমে যাওয়ায় অনেক কন্টেইনার ডুবে গেছে। সেসব কন্টেইনারে রক্ষিত আমদানি ও রপ্তানি পণ্যগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বাইরে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের অধিকাংশই নিচু এলাকাগুলোতে বসবাস করে। জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় প্রতিটি কারখানায় শ্রমিকের উপস্থিতি অর্ধেকে নেমেছে। এক সপ্তাহ ধরে লো ক্যাপাসিটিতে কারখানা চালাতে হয়েছে। এর ওপর বন্দরে জটের কারণে আমদানি করা পণ্য খালাস ও জাহাজিকরণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন জানান, এই দুর্যোগ বন্দর ব্যবস্থাপনায় বেশকিছু ত্রুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। যেমন বন্দরের ভেতরের ইয়ার্ডগুলোতে বেশকিছু এলাকায় পানি জমেছে। এসব এলাকায় কন্টেইনারে রক্ষিত পণ্য ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। কিন্তু আধুনিক বন্দরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরো উন্নত হওয়া উচিত যা চট্টগ্রাম বন্দরে নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষ পরে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়ে পানি অপসারণ করেছে কিন্তু তার আগেই বিপুল পরিমাণ পণ্য ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বহির্নোঙরে মাদার ভ্যাসেলের যে জট তৈরি হয়েছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে তা খুব সতর্কতার সঙ্গে হ্যান্ডলিং করতে হবে। এখানে পর্যাপ্ত লাইটার জাহাজের যোগান নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যাতে লাইটার জাহাজকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে এমন সংকট তৈরি হলে আরেকটি পক্ষ লাইটার জাহাজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। সেদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক আমদানিকারক তাদের পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার গতি কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বন্দর সবসময় সচল আছে। জেটিতে পণ্য খালাস কিংবা ডেলিভারিতে বন্দরের কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কিছুটা ব্যাহত হলেও আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষ সচেতন ও সক্রিয় রয়েছে।

বন্যার পানি নামছে , বেরিয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন

কুতুবদিয়ায় নিখোঁজ ৪ জেলের লাশ উদ্ধার

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকে লাথি দিলেন এমপি

সাতকানিয়ার বন্যা, ‘দোতলা বাড়িটি না থাকলে আমরা কেউ বাঁচতাম না’

বিএনপির মুখে এক, অন্তরে আরেক রূপ দেখতে পাচ্ছে জনগণ

কুতুবদিয়ায় সাগরে ট্রলারডুবিতে চারজনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ১

মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে, ডুবছে লোকালয়

প্রধানমন্ত্রীর ফোনের পর কুমিল্লার সেই এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তন

চকরিয়া-রামুতে আরো দুজনের মৃত্যু, কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৭

গোয়েন্দা সদস্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন