শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সামাজিক কাজেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে কেডিএস গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘কে ওয়াই’ স্টিল। প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি গরিব ও দুস্থ মানুষদের সহায়তা, মহাসড়কে নিরাপদে পারাপারের জন্য ফুট ওভারব্রিজ তৈরিসহ নিজেদের শ্রমিক কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কে ওয়াই স্টিলে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, প্রতিটি শ্রমিককে বীমার আওতায় আনা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সেফটি ট্রেনিং এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা রেখেছে কোম্পানিটি। শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত কারিগরি প্রশিক্ষণ চালুর ফলে কর্মীদের পেশাগত মানোন্নয়ন ঘটছে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা শিল্পাঞ্চল সমৃদ্ধ এলাকা সীতাকুন্ডের মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে শ্রমিক কল্যাণে চিকিৎসা ব্যয়, বেনিফিট ফান্ড ও ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে নিজেদের ব্যবস্থাপনায়।
প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, কেওয়াইসিআর কয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডর জোর-আমতল শাখার প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা কর্মচারী স্থানীয় বাসিন্দা। যোগ্যতা অনুসারে স্থানীয়দের নিয়োগ দেয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু থেকে করে অনুসরণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে কারখানার চারপাশে তিন শো মিটারের মধ্যে বাড়ি এমন অন্তত একশো মানুষ এখানে কর্মরত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানান, সীতাকুণ্ড শিল্প এলাকায় ছোট-বড় কয়েকশো প্রতিষ্ঠান যে কোনো প্রতিষ্ঠান শুরুর সময় স্থানীয়দের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কারখানা প্রতিষ্ঠিত হবার পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কেউ করে না। একমাত্র কে ওয়াই স্টিলই ব্যাতিক্রম। কারখানার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যে কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যা প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মসংস্থান তৈরির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এতে শুধু বহু পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরেনি, বরং স্থানীয় বাজারব্যবস্থা, পরিবহন খাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও ইতিবাচক গতি সঞ্চার হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের উন্নয়নের পাশাপাশি কারখানার পাশেই অবস্থিত কুমিরা আবাসিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পারাপারের জন্য প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর ফলে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে ও ঝুঁকিমুক্তভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পারাপার হতে পারছে। স্থানীয়দের মতে, এ উদ্যোগ সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের দুশ্চিন্তাও কমিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা রঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শিল্পের প্রকৃত সুফল স্থানীয় মানুষই আগে ভোগ করবে। আবার যে কোন কারখানার রক্ষণাবেক্ষণ স্থানীয় মানুষই করবে। সেই লক্ষ্য থেকেই স্থানীয়দের নিয়োগে অগ্রাধিকার ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। এর বাইরে সামাজিক কাজগুলোও যে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের মধ্যে পরে। সেই দায়িত্ব কে ওয়াই স্টিল গুরুত্বের সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করে।
জেডএম