ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে চরাতে নিয়ে যাওয়া গরু ভারতে চলে যাওয়ার পর সেগুলো ফেরত পেতে অসহায় হয়ে পড়েছেন এক বিধবা নারী। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।
জানা গেছে, উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরের নেছা প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী আবু তাহেরকে হারান। বড় ছেলে ফজলুল করিম ছাড়া তার বাকি দুই ছেলে ও এক মেয়ে প্রতিবন্ধী। দুইটি গাভী লালন-পালন করেই কোনোভাবে সংসার চালাতেন তিনি।
গত ২২ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে তার প্রতিবন্ধী ছেলে নজরুল ইসলাম (৩১) বাড়ির পাশে আশ্রাফপুর বড় কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় গরুগুলোকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। এ সময় সীমান্তের একটি অংশে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া কাটা থাকায় গরুগুলো সেখান দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে।
এরপর থেকেই গরুগুলো হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন নুরের নেছা ও তার পরিবার। টানা ৮ থেকে ১০ দিন খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন, গরুগুলো ভারতের রাজনগর থানায় রয়েছে।
নুরের নেছা বলেন, “এই গরুগুলোই আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন। আমার পরিবারে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। থানা-পুলিশ কিছুই চিনি না। যেভাবেই হোক আমি আমার গরুগুলো ফেরত চাই।” তিনি জানান, তার তিনটি গরুর মধ্যে দুটি গর্ভবতী গাভী এবং একটি বাছুর রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি জানার পর গ্রামবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিজিবির সুবার বাজার ক্যাম্পকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে ভারতের বিলোনিয়া এলাকার এক সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গরুগুলো রাজনগর থানায় রয়েছে।
এ ঘটনায় নুরের নেছা পরশুরাম মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন (ডায়েরি নং: ১০৬)। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. আশ্রাফুল ইসলাম।
ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএম জিল্লুর রহমান জানান, “বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে গরুগুলো ফেরত আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১১ এপ্রিল উপজেলার একই ইউনিয়নের মধুগ্রাম সীমান্তের ৪৬ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকা থেকে দরিদ্র কৃষক মীর হোসেন মিনুর একটি গরু বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়। পরে যোগাযোগ করা হলেও সেটি আর ফেরত পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।