চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত আবারও কেড়ে নিল এক তরুণের প্রাণ। তীব্র সাগর স্রোতের কবলে পড়ে শুক্রবার বিকেলে মেহেরাজ হোসেন (১৯) নামে এক পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় সম্ভাবনাময় এই সৈকত এখন অনেকের কাছে ‘মৃত্যুফাঁদ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।
নিহত মেহেরাজ চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোশারফ আলীর ছেলে। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণ হারাতে হওয়ায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে মেহেরাজ তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সৈকতে নামেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ জোয়ারের তীব্র স্রোত তাদের গভীর দিকে টেনে নেয়। উপস্থিত লোকজন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তার বন্ধুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও মেহেরাজ স্রোতের তোড়ে নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, “সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এক তরুণকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার)ইদ্রিস জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্রের তীব্র স্রোতেই তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগেও এই সৈকতে দুই শিক্ষার্থীসহ অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনার পরও কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে ক্ষোভের পাশাপাশি আতঙ্কও বাড়ছে।
তাদের অভিযোগ, বাঁশবাড়িয়া সৈকতে নেই কোনো স্থায়ী লাইফগার্ড, নেই সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা বিপদসংকেত। বিশেষ করে জোয়ারের সময় হঠাৎ স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেলে অজ্ঞাত পর্যটকরা সহজেই বিপদে পড়ে যান। সচেতনতার অভাব এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতিকেই এসব মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন তারা।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই সৈকতকে নিরাপদ পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে লাইফগার্ড নিয়োগ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, সতর্কবার্তা বোর্ড স্থাপন এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন।