রাত পোহালেই বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজার-০১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনের ২৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কেমন হবে নির্বাচন? সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবেতো? এরকম নানা প্রশ্ন সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে। তবে জনগণের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন।
ওসি আর বলেন, বুধবার বিকালে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেয়া মহড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শামীম কবীর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( রাত পোহালেই ভোট: কক্সবাজার-১ আসনের ১৭৭ কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছেছে, মাঠে ৭০০ সেনা সদস্য ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহীন দেলোয়ার এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন অফিসার ফোর্স, বিজিবি, আনসার ও আরো অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার ১৩০টি এবং পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৪৭ ভোট কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্র সমুহে ১৭৭ জন প্রিসাইডিং, ১০০৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং, ২০১২ পোলিং অফিসার ভোট গ্রহণের কাজে দায়িত্ব পালন করবেন। বুধবার বিকালের মধ্যেই সংসদীয় আসনের ১৭৭টি ভোট কেন্দ্রের নির্বাচনি কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্ব স্ব উপজেলা প্রশাসন। ভোট চলাকালে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার বাহিনী ১৬ থেকে ১৮ জন সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করবেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন দেলোয়ার জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চকরিয়া উপজেলায় গত কয়েকদিন থেকে সেনাবাহিনীর চার শতাধিক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও আট প্লাটুন বিজিবি, এক প্লাটুন র্যাব, পুলিশের ১২টি মোবাইল টিম এবং আনসার সদস্য রয়েছে দুই প্লাটুন। ইউএনও আরও বলেন, নির্বাচনি মাঠে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব বলেন, পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৪৭ ভোট কেন্দ্রে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও ভোটকেন্দ্র ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন তিন শতাধিক সেনা সদস্য। এছাড়া নির্বাচন চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নিমিত্তে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, এক প্লাটুন রিহ্যাব, পুলিশের মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ইতঃপূর্বে ভোটকেন্দ্র ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এবং আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলার ১৩০টি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসন, ভোটকেন্দ্র এলাকায় যৌথ বাহিনীর পরীক্ষামূলক মহড়াও দেওয়া হয়েছে।
ওসি আরো বলেন, বুধবার বিকালে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেয়া মহড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শামীম কবীর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহীন দেলোয়ার এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন অফিসার ফোর্স, বিজিবি, আনসার ও আরো অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশসহ আনসার বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ শুরু করেছেন। সাদা পোশাকের গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন।
তিনি আরো বলেন, ভোট চলাকালীন কেউ যদি কেন্দ্র দখল, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ বা ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে প্রশাসন। নির্বাচনি পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হলে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভোট কেন্দ্রে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সকল কেন্দ্রের পরিবেশ মনিটরিং করা হবে। আমরা চাই সকলের সহযোগিতায় দেশে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিনজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুখ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী। ২৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে এ সংসদীয় আসনটি গঠিত। তন্মধ্যে চকরিয়া উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা : ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯০ জন এবং পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা: ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৯৯ জন। এই আসনে সর্বমোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৭৫টি এবং বুথ (কক্ষ) সংখ্যা ১ হাজার ৬টি।