হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

বিক্রি না হওয়ায় নদীতে চামড়া ফেলে দিলেন ব্যবসায়ীরা

এস এম ইউসুফ আলী, ফেনী

ফেনীতে কোরবানির পশুর চামড়া কিনে চরম বিপাকে পড়েন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। উপযুক্ত দাম পাওয়াতো দূরের কথা, চামড়া নেয়ার মতো কোনো পাইকার বা বেপারি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নদীতে ফেলে দিয়েছেন অনেক ক্রেতা।

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে জেলার দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর গ্রামের কাটাখালি নদীতে বিপুল পরিমাণ চামড়া ফেলে দেয়ার কারণে নদী ও আশপাশের পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়ের আশায় মারিজপুর গ্রামের খুরশিদ ও দিদারুল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শতাধিক গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। আশা ছিল, পাইকারদের কাছে এসব চামড়া বিক্রি করে নিজেরা কিছুটা লাভবান হবেন।কিন্তু রাত জেগে বসে থেকেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পাইকারি ব্যবসায়ীর দেখা না পেয়ে চামড়াগুলো নদীতে ফেলে দেন তারা।

ভুক্তভোগী খুরশিদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নগদ টাকা দিয়ে চামড়াগুলো কিনেছিলাম। বিক্রির জন্য পুরো রাত জেগে বসেছিলাম, কিন্তু কোনো বেপারি আসেনি। একে তো তীব্র গরম, তার ওপর সময়মতো লবণ দিতে না পারায় চামড়াগুলোতে পচন ধরে গন্ধ ছুটে গেছে। যাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, তাদের ফোনও বন্ধ পাচ্ছি। কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে চামড়াগুলো কাটাখালি নদীতে ফেলে দিয়েছি।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চামড়া নদীতে ফেলে দেয়ার ভাইরাল ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। তারা যদি চামড়া বিক্রি করতে না পারতো তাহলে বিষয়টি আমাদের জানাতো অথবা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করতো। কিন্তু তারা তা না করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

এদিকে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবারও ফেনীর কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়নি কোরবানির পশুর চামড়া। মাঠপর্যায়ে মৌসুমি খুচরা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা দামের বড় গরুর চামড়া কিনেছেন মাত্র ২০০ টাকায়। মাঝারি ও ছোট চামড়া কিনেছেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। আর ছাগল ও ভেড়ার চামড়া কিনেছেন ৫০ থেকে ৭০টাকায়।

এছাড়া কিছু এলাকায় কোনো ক্রেতার দেখাই মেলেনি। নিরুপায় হয়ে সিংহভাগ কোরবানিদাতা তাদের পশুর চামড়া

মাটিচাপা কিংবা স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসায় দান করে দিয়েছেন।

পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর গ্রামের বাসিন্দা ও ছলেমা নজীর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বাহাদুর হোসেন বলেন, আমরা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি করে পেয়েছি মাত্র মাত্র ২০০ টাকা।

একই ইউনিয়নের যুবদলের আহ্বায়ক মনির হোসেন মিন্টু জানান, তার ২ লাখ ২০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে মাত্র ২০০ টাকায়।

উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ধনিকুণ্ডা গ্রামের শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো ক্রেতা না আসায় বেশিরভাগ মানুষ চামড়া এতিমখানায় দান করে দিয়েছেন।

তাছাড়া জেলার সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও এমন পানির দরে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ন্যায্য দাম না পেয়ে অনেকেই বিক্রি না করে ক্ষোভে নিজেদের পশুর চামড়া মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মধ্যে কুসিক প্রশাসকের মাংস বিতরণ

ফেনীতে কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে আহত শতাধিক

বগুড়ায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

চট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ নিহত ৪

চাঁদপুরে ৫ হাজার পরিবারে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিল জামায়াত

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্দ্বীপের যুবক নিহত

পরশুরাম পাইলট স্কুলের শিক্ষার্থীদের ৮২ বছর পর পুনর্মিলনী

সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চট্টগ্রামে নষ্ট বিপুল চামড়া

‎নিখোঁজের এক দিন পর শিশুর লাশ উদ্ধার ‎

রামগড়ে অপহরণের পর দুই মোটরসাইকেল চালককে নির্যাতন