১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া কক্সবাজারের স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ আর্থিক সহায়তা ২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নিয়ে এসেছে জাতিসংঘ। কক্সবাজারে কর্মরত এনজিওদের সংগঠন কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেছে। বুধবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়, জাতিসংঘ, জাতিসংঘভুক্ত সংস্থা, আইএনজিও ও জাতীয় এনজিওগুলোর কোনো পক্ষই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে পরিকল্পনা করছে না। কোনো সংস্থাই এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে রোডম্যাপ নিয়ে পরিকল্পনা করেনি। তারা কেবল বরাদ্দ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে আছে।
সংগঠনটি বলছে, রোহিঙ্গা সংকট এখন নবম বছরে পদার্পণ করেছে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলো কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। এ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতি বছর একটি যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
‘ইউএনএইচসিআরকে অবশ্যই স্থানীয় এনজিওদের অংশীদারিত্বে অগ্রাধিকার দিতে হবে; জেআরপিতে স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ বরাদ্দ স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
এতে বক্তারা জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের জন্য সুযোগ না রাখারও সমালোচনা করেন। তারা বলেন, জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধির বক্তব্যের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি অথচ আন্তর্জাতিক এনজিওর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা একটি ‘জেআরপি ২.০’ কাঠামোর প্রস্তাব করেন, যেখানে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সিসিএনএফের প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় এনজিও প্রতিশ্রুতির আঞ্জুমান আরা, কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. ইকবাল উদ্দিন, মো. শাহিনুর ইসলাম ও তাহরিমা আফরোজ টুম্পা; কক্সবাজার পর্যটন শিল্প, সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেওয়াজ মো. সেলিম, রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের নুরুল কবির; পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর আহমদ, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির মুহম্মদ নুরুল ইসলাম, কক্সবাজার ইয়ুথ ফোরামের নাসিমা আখতার, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্সের জাহানারা ইসলাম ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী।
রেজাউল করিম চৌধুরী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
জেডএম