চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌরুটের জনপ্রিয় স্পিডবোট সেবা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত নতুন ভাড়ায় বোট চালালে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের ঝুঁকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বোট মালিকরা।
মঙ্গলবার কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে দুই পাড়ে কয়েক হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে স্পিডবোট সেবা প্রদানকারী প্রধান প্রতিষ্ঠান আর কে এন্টারপ্রাইজসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।
আর কে এন্টারপ্রাইজের মালিক জগলুল হোসেন নয়ন আমার দেশকে বলেন লোকসান দিয়ে তো আর ব্যবসা করা সম্ভব নয়। আমরা ভাড়া পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছি।
বোট মালিকদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও ঘাটের ইজারা ব্যয় বাড়লেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে ভাড়া আগের ২৫০ টাকার স্থলে মাত্র ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ সমদূরত্বের অন্যান্য নৌরুটে (যেমন: নোয়াখালী-হাতিয়া) ভাড়া ৩০০ টাকার উপরে। এই বৈষম্যের কারণে প্রতিটি ট্রিপে মালিকপক্ষকে লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
সন্দ্বীপের কয়েক লাখ মানুষের মূল ভূখণ্ডের সাথে যোগাযোগের দ্রুততম মাধ্যম এই স্পিডবোট। জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে এই সেবা অপরিহার্য। স্থায়ীভাবে বোট বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প হিসেবে জাহাজ বা ট্রলারে যাতায়াত করতে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করবে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর উপপরিচালক নয়ন শীল আমার দেশকে জানান, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করছেন তারা। অন্যদিকে, সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন কঠোর অবস্থান জানিয়ে বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই স্পিডবোট চালাতে হবে, এর বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে জরুরি রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে শীঘ্রই কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এমই