কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে দুই প্রবাসী ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আহতদের মধ্যে একজনের মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাপাশকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন কাপাশকান্দি গ্রামের বাসিন্দা অরুণ মিয়া মুন্সীর দুই ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম মুন্সী (৩৫) ও মো. আলাউদ্দিন মুন্সী (৪৫)। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই মো. ইকরাম হোসাইন বাদী হয়ে তিতাস থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, কাপাশকান্দি গ্রামের আলমগীর, উজ্জ্বল, সামছুলসহ একটি পক্ষের সঙ্গে সাইফুল মুন্সীদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে সাইফুল মুন্সিদের বাড়িতে গিয়ে মো. অপু মোল্লা (৩০) মো. ফরহাদ মিয়া (২৫), আলমগীর হোসেন (৩৫), মো. সামছুল হক (৫০), মো. আ. ছাত্তার (৪৫), মো. সামির হোসেন (২৩), আবুল হোসেন (৩৫), মো. জহির মিয়া (৪৫), মো. মফিজ উদ্দিন (৩৬) ও মো. ছালাল মিয়া (৪০) সহ একদল সাইফুল মুন্সি ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা বিল্ডিংয়ের ভিতর রুমে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলামের ওপর আক্রমণ চালায়। এ সময় তার মাথা ও হাতের কনুইয়ের ওপর গুরুতর জখম হয়। ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আলাউদ্দিন মুন্সীকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে প্রথমে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলার কারণ সম্পর্কে আহতদের ভাই ইব্রাহিম মুন্সী ও ইকরাম মুন্সী সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরির একটি ঘটনার বিচারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ঢুকে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনায় সময় আমি আমার দোকানে ছিলাম অনেকে স্বাক্ষী আছে এবং দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে প্রমান পাবে। আর কে বা কারা মারামারি করেছে তাও আমি জানিনা।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক বলেন, কাপাশকান্দি গ্রামের মারামারির ঘটনায় আহত সাইফুল ইসলামের ছোট ভাই ইকরাম হোসাইন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে।”