কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ নিহত
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্বরত গেটম্যানরা ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত থাকায় ট্রেনের সিগন্যাল শুনতে ব্যর্থ হন।
শনিবার ঈদের দিন রাত প্রায় ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিং এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট গেটম্যানদের দায়িত্বে গাফিলতিকেই এ ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, গেটম্যানদের কক্ষে মাদক সেবনের আলামত পাওয়া গেছে। সেখানে ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের উপকরণ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, গেটম্যানদের জন্য নির্মিত সরকারি কক্ষগুলোতে নিয়মিত তদারকি না থাকায় সেখানে প্রায়ই নেশার আসর বসে। ঘটনার রাতেও গেটম্যান মেহেদী ও হেলাল বহিরাগতদের সঙ্গে মাদক সেবনে মত্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শেখ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, গেটম্যানদের ঘরে কোনো ধরনের মাদক সেবন হয় না এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রকৌশল বিভাগ তদন্ত করে জানাবে।
কুমিল্লা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ ফরহাদ সরকার জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জসীমউদ্দীন বলেন, গেটম্যানরা মাদক সেবন করেছেন কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উঠে আসবে এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।