জামায়াতে ইসলামীর নারী দায়িত্বশীলদের ওপর সারা দেশে বিএনপি কর্মীদের হামলা অব্যাহত থাকলে আমরা ভোটের ময়দানে এগিয়ে যাব, বরং তারা (বিএনপি) ভোটের ময়দানে পিছিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি বলেন, আমাদের অনেক নারী দায়িত্বশীলের ওপর হামলা করা হয়েছে। যারা হামলা করেছে তাদের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে। সারা দেশ তাদের নিন্দা জানাচ্ছে। আমরা কিন্তু হামলার বদলে কোন হামলা করিনি। এটাকে আমরা সমর্থনও করিনা।
শনিবার বিকালে নগরীর দেওয়ানবাজারস্থ জামায়াতের নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, আগামী ২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আসছেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সেদিন তিনি পাঁচটি জনসভায় যোগ দেবেন। প্রথমে তিনি কক্সবাজারের মহেশখালীতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের আসনে জনসভায় যোগ দেবেন। এরপর কক্সবাজার শহরে একটি, লোহাগাড়ার পদুয়ায় একটি জনসভায় যাবেন। এরপর তিনি হেলিকপ্টারে চতুর্থ জনসভা উত্তর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নামবেন। সেখানে সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি সড়ক পথে চট্টগ্রাম শহরে এসে বন্দর এলাকায় বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে মহানগরীর আসনগুলোর জন্য আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। তারপর এই পাঁচটি জনসভা শেষ করে একটি ফ্লাইটে তিনি চট্টগ্রাম ছাড়বেন।
মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, আমরা কেন্দ্রীয় কোন জনসভা না করে এতোগুলো জনসভা করার অর্থ হচ্ছে আমরা অনেক ভোটারের কাছে পৌঁছতে চায়। চট্টগ্রাম বন্দর ও সীতাকুণ্ড উপজেলার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বুঝে এই এলাকা বেচে নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই অনেক ভোটারের সাথে দেখা করতে, অনেক বেশি মানুষ সমবেত করতে। সীতাকুণ্ড এলাকাটি উত্তর চট্টগ্রামের মধ্যস্থানে রয়েছে। সেখানে সমাবেশ করলে চারদিক থেকে নেতাকর্মীরা আসতে পারবেন। তিনি বলেন, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সংশ্লিষ্ট এলাকার জনদাবিগুলো সম্পর্কে অবগত আছেন। তিনি জনগণকে সেসব বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে গণভোটে সবাইকে হ্যাঁ দিতে। তবে আমরা আগে থেকেই বলেছি গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন আলাদা আলাদা করে অনুষ্ঠিত হতে হবে। তাহলে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান মর্যাদা পেতো। গ্রাম পর্যায়ে অনেক ভোটারের দুটি ভোট দিতে সমস্যা হতে পারে। এই পর্যায়ে এসে সেটি আবারও উপলদ্ধি হচ্ছে যে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আলাদা হওয়া দরকার ছিল। তবে আমরা সরকারি সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে একইসাথে করার পক্ষে মনে নিয়েছি। তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ দিলে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধসহ যারা শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের শাহাদাতকে মর্যাদান্বিত করা। নতুন বাংলাদেশ পথ তৈরি করে দেওয়া, গোটা বাংলাদেশকে এগিয়ে দেওয়া। এজন্য আমরা গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।