চট্টগ্রাম নগরের আমিরবাগ এলাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ফেরত প্রবাসী মো. রফিককে হত্যার মামলায় সাত আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় দুই দশক পর এ হত্যা মামলার নিষ্পত্তি হলো।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন মো. বেল্লাল হোসেন, জাকির হোসেন, শহীদ রাজা (প্রকাশ শহীদ), হোসেন (প্রকাশ মো. হোসেন), জামাল, জসিম ও মিল্টন সরদার। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন মো. হুমায়ন কবির, পনু ব্যাপারী, আবু তাহের, মনির হোসেন, মো. ডালিম মল্লিক, কবির বেপারী, কামাল সিকদার, সাহাব উদ্দিন ও মঈন উদ্দিন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ হাসেম বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রবাসী মো. রফিককে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে বেল্লাল হোসেন, জাকির হোসেন, শহীদ রাজা ও হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজার পরোয়ানা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে জামাল, জসিম ও মিল্টন সরদার আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। পলাতক এ তিনজনকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত মো. রফিক ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই দেশে ফেরেন। ওই বছরের ১৪ আগস্ট রাতে তিনি নগরের কদমতলী এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে কাছের বাজারে যান। রাত ৯টার দিকে পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা হয় তার। এরপরই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক সহকর্মীর মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে তারা রফিককে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে নগরের আমিরবাগ এলাকায় ফেলে রেখে গেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জাকির হোসেন লুলু নগরের কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।