প্রতিটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে ডাক্তার থাকার নিয়ম থাকলেও এক যুগ ধরে রায়পুরের দুটি ইউনিয়নের দুটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো ডাক্তার নেই। এতে খেটে খাওয়া সাধারণ রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর এ কারণে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর উপজেলার ১নং চরআবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি এবং ৭নং বামনী ইউনিয়নের সাইচা গ্রামে অপর একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এসব উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে ডাক্তারের পদ থাকলেও প্রায় ১১-১২ বছর ধরে এ পদগুলো খালি পড়ে আছে। তবে সপ্তাহে এক দিন এমবিবিএস এবং বাকি পাঁচ দিন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে রোগী দেখানো হয়।
বামনী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন মুন্সী বলেন, প্রায় তিন-চার বছর আগে একজন ডাক্তার এসে সাত-আটজন রোগী দেখেছেন। এরপর আর কোনো ডাক্তার এই কেন্দ্রে আসেননি। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন না; সামান্য সমস্যাতেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে।
হায়দরগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ঘিরে তিনটি ইউনিয়নের উদমারা, চরবংশী, খাশেরহাট, চরভৈরবী, চরআবাবিল, ঝাউডগী, হাওলাদার বাজার, আলগি বাজার, চরভাঙ্গা, টমটম পুরান বেড়ী, জালিয়ার চর, শহর আলী মোড়, বিরমপুর ও চরভৈরবী ইউনিয়নের ৮৬ হাজার ৬৩৮টি পরিবার, হায়দরগঞ্জ বাজারের ২০০ ব্যবসায়ী, প্রায় ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও দিনমজুর চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। কিন্তু গত ১০ বছর ডাক্তার না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
হায়দরগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মানস দে জানান, আমি এ কেন্দ্রে এক বছর আগে যোগদান করেছি। এমবিবিএস ডাক্তার ও ফার্মাসিস্ট না থাকায় তাদের দায়িত্ব আমাকে একাই পালন করতে হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।
১নং চরআবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাফর উল্লাহ দুলাল বলেন, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় এক যুগ ধরে কোনো ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লোকজন। আমার ইউপি থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার। তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে গ্রামের অনেকেই চিকিৎসা নিতে পারছেন না।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহরুল আলম বলেন, সপ্তাহে এক দিন এমবিবিএস এবং বাকি পাঁচ দিন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গিয়ে রোগী দেখেন। দুটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিষয়ে অবগত আছি। এ বিষয়ে দু-এক মাস পরপর সিভিল সার্জনকে অবগত করে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। ডাক্তার না থাকায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর প্রভাব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশি পড়ছে। এতে হাসপাতালের ডাক্তারদের ওপর রোগীদের অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। প্রতিদিন চার-পাঁচশ রোগী আসেন হাসপাতালের বহির্বিভাগে।