গোসাইপুর-জালশুকা সড়ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার গোসাইপুর-জালশুকা সড়কের নির্মাণ কাজ ১১ মাসেও শেষ হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী নয়মাসে কাজ শেষ করারও কথা থাকলেও ঠিকাদার লোকমান হোসেন তা আর করেননি।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লোকমান হোসেন। সড়কের বক্সকাটিং করে ১১ মাস ধরে ফেলে রেখেছেন। তার স্বেচ্ছাচারিতা ও গাফিলতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, তিতাস নদীর উত্তর পাড়ে বড়াইল ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রাম। গ্রামের পশ্চিম দিকে রয়েছে বাজার। এ বাজারের নির্ভরশীল রাধানগর, চরগোসাইপুর, জালশুকা, বড়াইল, মেরাতুলী গ্রামের মানুষজন। বাজারের পূর্ব দিকেই চলে গেছে গোসাইপুর-জালশুকা সড়ক। এ সড়কের উত্তর পাশেই গোসাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের এক কিলোমিটার দূরেই গোসাইপুর দারুস্সুন্নাহ মাদরাসা। এরপর সড়কের পাশেই রয়েছে ব্যাপারী বাড়ি মসজিদ। গ্রামের পূর্বপাড়ায় রয়েছে বড়বাড়ি জামে মসজিদ। প্রতিদিন জালশুকা, মেরাতুলী, নদীর দক্ষিণ পাড়ের বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মনিপুর, রাজাপুর ও ভৈরবনগর গ্রামের মানুষেরাও সড়কটি ব্যবহার করে বাজারে আসেন।
এছাড়াও বাজারের ঠিক উত্তর দিকেই রয়েছে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, গোসাইপুর কবরস্থান ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। পূর্বদিকে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংক। মূলত সড়ক ধরেই এসব ব্যাংকের সেবাগ্রহীতারা আসেন। কেউ কেউ সকাল সকাল নিত্যপণ্য কিনে নিতে বাজারে আসেন।
গোসাইপুর বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি মনিপুর। প্রতিদিনই তিতাস নদী গুদারা দিয়ে পার হই। এরপর এ সড়ক ধরেই বাজারে আসি। নদীর পাড়ে থাকা মাটির এ সড়কটি বর্ষাকালে বৃষ্টি হলেই ভেঙে পড়ে। দুপাশেই খানাখন্দ হয়ে যায়। মানুষ স্বাভাবিক চলাচল করতে পারেন না। এমনও দিন গেছে অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে পড়ে গেছে।
বড়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার বলেন, পূর্ব অঞ্চলের জনগণের জন্য এই রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গোসাইপুর বাজার ও রাধানগর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসা-যাওয়ার একমাত্র সড়ক। ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও কোনো কর্নপাত করেনি। সড়কটির কাজ না হওয়ার কারণে এ অঞ্চলের জনগণের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
গোসাইপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার ডা. হুমায়ুন কবীর বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। বিভিন্ন মানুষজন এ সড়ক ধরেই চলাচল করেন। কিন্তু ভোগান্তির শেষ নেই। নির্মাণ কাজ করতে এসে ঠিকাদার আর কাজ করছেন না। এখন বর্ষাকাল। বৃষ্টি হচ্ছে। মোড়ে মোড়ে ভেঙে মাটি পড়ে যাচ্ছে তিতাস নদীতে। কেউ কেউ পা পিছলে পড়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না শিক্ষার্থীরাও।
তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা আপনার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং দ্রুত সময়ে সড়কটির কাজ শেষ করার দাবি করছি।
সড়কের কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনকে দায়ী করে এলাকাবাসী বলেন, চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এই সড়টির বিষয়ে কোনো খোঁজখবর না রাখার কারণে কাজের এই অবস্থা। কাজ বন্ধ থাকার দায় চেয়ারম্যান এড়াতে পারেন না।
অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির হোসেন বলেন, সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে আমি কয়েকবার তাগিদ দিয়েছি।
কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে ঠিকাদারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী বলেন, এই সড়কের কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। আমি এখনই খোঁজখবর নিচ্ছি এবং দ্রুত সময়ে কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব হোসেন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।