ফেনীতে পৃথক দুইটি ঘটনায় এক গৃহবধূ ও এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছেন। একটি ঘটনায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। অপর ঘটনায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) জেলার দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাইতুল শরীফ মসজিদ কোয়ার্টারে গৃহবধূ হত্যার ঘটনাটি ঘটে। এর আগের দিন রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে একই উপজেলার দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অটোরিকশা চালক হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহত অটোরিকশা চালক সমীর কুমার দাস (২৮) মাতুভূঞা ইউনিয়নের রামানন্দপুর গ্রামের জেলে বাড়ির কার্তিক কুমার দাসের ছেলে। অপরদিকে নিহত গৃহবধূ সাবিনা আক্তার (৪০) কুমিল্লার বুড়িচং থানার ইছাপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. মোমেন ও লুতফা বেগমের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমীর কুমার দাস দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রোববার রাতে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পুলিশকেও অবহিত করেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ির পাশে তার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
অন্যদিকে সোমবার সকালে রাজাপুর ইউনিয়নের বাইতুল শরীফ মসজিদ কোয়ার্টারে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে মোহাম্মদ ফয়সল নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী সাবিনা আক্তারের মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাদুটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতদের পরিবার পৃথকভাবে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম জানান, গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অটোরিকশা চালক হত্যাকাণ্ডটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশে নাকি অন্য কোনো কারণে সংঘটিত হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।