চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের জন্য চালু করা হয়েছে ইন্টারকমের ব্যবস্থা। এর ফলে এখন থেকে কয়েদি ও হাজতিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে নির্বিগ্নে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে ইন্টারকমের মাধ্যমে কথা বলতে পারবেন। ব্যবস্থাটি পেয়ে উচ্ছ্বসিত কারাবন্দি ও তাদের স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ইন্টারকম সেবার উদ্বোধন করেন। বেসরকারি সংস্থা আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় বন্দিদের জন্য এই সেবা চালু করা হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, কারাগারে প্রতিদিন শত শত মানুষ তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। কিন্তু কারাগারের দেখার কক্ষে অত্যন্ত শব্দ হয়। অনেক মানুষ একসঙ্গে ভিড় করায় কেউ কারো কথা বোঝে না। অনেক দূর থেকে সন্তান তার বাবার সঙ্গে দেখা করে দুটি কথা বলার ইচ্ছে নিয়ে আসে। কিন্তু পরে সেটি বলা হয় না পরিবেশের কারণে। এতে তারা বেদনা ও বিরক্তি নিয়ে ফিরে ফিরে যায় কারাগার থেকে।
এ জন্য তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুবিধার্থে ইন্টারকম চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৬টি করে দুই প্রান্তে মোট ৩২টি ইন্টারকম চালু করা হয়েছে। এতে বন্দিরা তাদের মা, বাবা, ভাই, বোন, সন্তানের সঙ্গে ২০-৩০ মিনিট করে নির্বিগ্নে কথা বলতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে অনলাইনের মাধ্যমে স্বজনেরা যেন সিরিয়াল নিতে পারেন, সে জন্য আরেকটি প্রকল্প আমরা করার উদ্যোগ নিয়েছি ‘
এদিকে সরেজমিনে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাক্ষাৎকক্ষে দেখা যায়, বন্দির স্বজনেরা ইন্টারকমে কথা বলছেন। তাদের কারারক্ষীরা ও শামসুল হক ফাউন্ডেশনের কর্মীরা কীভাবে ইন্টারকম চালাতে হয় তা শিখিয়ে দিচ্ছেন।
এ সময় আনোয়ারা থেকে আসা রহিমা বেগম জানান, ‘আগে চিৎকার করে কথা বলতে হতো। তা-ও কিছু শোনা যেত না। এখন ইন্টারকম থাকায় চিৎকার-চেচাঁমেচি ছাড়াই কথা বলতে পারছি। একই কথা বলেন, সীতাকুণ্ড থেকে আসা আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় বন্দি কারাগার থেকে আসার জন্য। কিন্তু আসার পর কিছুই বুঝতে পারি না। এই ইন্টারকম দেওয়ার ফলে আমরা ফোনের মতো কথা বলতে পারছি।