ফেনীতে মুক্তিপণের দাবিতে নাশিত নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ফেনীর আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আশ্রাফ হোসেন তুষার, মোবারক হোসেন ওয়াসিম ও ওমর ফারুক রিফাত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় আতিকুল আলম সড়কে কোচিং ক্লাস শেষ করে বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় নাশিত।
নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা নাশিতকে অপহরণ করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করেন। পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ রেললাইনের পাশে ডোবায় ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। লাশ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য ওই শিক্ষার্থীর স্কুলব্যাগে পাথর ভরে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশে কাছে তুষার নামে এক কিশোরকে সন্দেহের কথা জানান তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতে তুষারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলে তার দেওয়া তথ্যমতে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের স্কুলব্যাগসহ লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তুষারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থী নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। পরিবারের সঙ্গে ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নাশিতের পরিবার।