নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটিতে বিদেশি অপারেটর কোম্পানি নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও স্কপ আহুত ধর্মঘটে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। গত দুই দিন বন্দর ভবনে প্রশাসনিক কাজ চললেও আজ সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক কর্মচারীরা বন্দর ভবনে ঢুকে তাও বন্ধ করে দিয়েছে।
এর আগে আগ্রাবাদ এলাকা থেকে কালো পতাকা মিছিল বের করে আন্দোলনরত শ্রমিক কর্মচারীরা। মিছিলটি বন্দর এলাকায় পৌছলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
বন্দর সূত্র জানায়, গত দুই দিনের চেয়ে তৃতীয় দিনে সর্বাত্মক অবরোধ পালিত হচ্ছে বন্দরে। বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য নামানো এবং জাহাজে ওঠানোর কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ আছে। বন্দর থেকে খালাস হওয়া কনটেইনার ও পণ্য পরিবহন এবং জাহাজে তোলার জন্য কনটেইনার পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। বেসরকারি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি রপ্তানি পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পুর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মোতাবেক সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্কপের উদ্যোগে আগ্রাবাদ মোর থেকে বন্দর অভিমুখে কালোপতাকা মিছিল বের করেন শ্রমিক কর্মচারীরা। তবে আগে থেকেই বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় মিছিলটি বন্দর এলাকায় পৌছনোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশি বাধায় সেখানেই বক্তব্য রাখেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। বন্দরকে বিদেশি কোম্পানীর কাছে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পাশাপাশি আন্দোলনে থাকা ১৬ কর্মকর্তা কর্মচারীর বদলীর আদেশ বাতিল করার দাবি জানান তারা। নইলে ৮ ঘন্টার কর্মবিরতি ১২ ঘন্টায় করার পাশাপাশি আরো কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি জানান তারা।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম আহবায়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দেশের ও দেশের অর্থনীতির প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। আর এই কারণেই বন্দরের মতো প্রতিষ্ঠান গত তিন দিন ধরে অচল হয়ে থাকলেও তারা সংকট সমাধানে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি আন্দোলনের কারণে বদলি করা শ্রমিক কর্মচারীদের বদলি আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলেও হুঁশিয়ারি জানান তিনি।
তবে এ ব্যাপারে বন্দরের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক প্রশাসন ওমর ফারুকসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউ ফোন রিসিভ করেনি।