হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে রেলস্টেশনে স্বস্তি, ভিড় বাড়ছে বাসে

শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রা

এম কে মনির, চট্টগ্রাম

সরকারি ছুটির তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ঈদে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ কাটাতে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির দিকে ছুটছেন লাখ লাখ নগরবাসী। কেউ ট্রেনে বসে, কেউ দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। হাতে-কাঁধে ব্যাগ, কোলে আদরের সন্তান। কষ্ট সইয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদ কাটানোর অপেক্ষা—সব মিলিয়ে স্টেশনে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে রেলযাত্রায় স্বস্তি থাকলেও বাসে বেড়েছে ভিড়। শেষ মুহূর্তে নগরীর প্রধান প্রধান যাত্রা কেন্দ্রগুলোতে যাত্রীদের ব্যস্ততা। টিকিটের ব্যবসায় দম ফেলার ফুরসত নেই কাউন্টার মালিকদের৷ দুদিন ধরে চলা ডিজেলের অর্যাপ্ততাও কেটেছে। তাই পরিবহন মালিকদের চোখে-মুখেও স্বস্তি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ঘুরে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বিকেলে এই ভিড় ছিল সকালের তুলনায় কয়েকগুণ। তবে চোখে যাত্রীদের চোখে মুখে আনন্দের ছাপ। কেউ প্রিয়জনের সাথে ফোনে কথা বলছেন, কেউ সন্তান ও ব্যাগ সামাল দিচ্ছেন। ট্রেনের জন্য প্লাটফর্মে বসে অধীর আগ্রহে তারা অপক্ষো করছেন। ট্রেনের ভেপু বেজে ওঠতেই ব্যাগ নিয়ে ছুটোছুটি শুরু হয়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ৫৮টি আন্তঃনগর ও ৪৮টি লোকালসহ মোট ১০৬টি ট্রেন চলাচল করছে। ঈদ উপলক্ষে ১৬ মার্চ থেকে 'চাঁদপুর স্পেশাল'সহ চার জোড়া বিশেষ ট্রেন যুক্ত হয়েছে, যা প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে পারছে। এবার ঝামেলা এড়াতে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে এবং 'টিকিট যার, ভ্রমণ তার' নীতি বাস্তবায়নে স্টেশনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, মঙ্গলবার থেকে ফিরতি ট্রেনের টিকিটও বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ দেওয়া হয়েছে এবং ২৯ মার্চের টিকিট ১৯ মার্চ পাওয়া যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর মজুমদার জানান, গত মঙ্গলবারের চেয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি। এই দুদিন সবচেয়ে নগর ছাড়ছে মানুষ। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সব ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, রেল পুলিশ, আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও স্টেশনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে সড়কপথের চিত্র ভিন্ন। চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গ, ঢাকা ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন রুটে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বাস চলাচল করছে। তবে গত সোমবার ও মঙ্গলবার ডিজেল সংকটে চালকরা দিশেহারা ছিল। বাস মালিকদের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে প্রতিটি বাসের সিডিউল বিপর্যয় ঘটছিল। তবে বুধবার থেকে ডিজেলের সেই সংকট কেটে যাওয়ায় নির্বিঘ্নে যাত্রা শুরু করা যাচ্ছে।

নগরের প্রধান যাত্রা কেন্দ্র অলংকার, একে খান ও দামপাড়া এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিটের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। প্রায় সব বাসে উপচে পড়া ভিড়। কোন কোন বাসে দাঁড়িয়েও যাত্রীরা রওয়ানা দিচ্ছেন। কাউন্টারগুলোর অপেক্ষাগারে যাত্রীতে ঠাসা।

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, ডিজেল সংকটের কারণে সিডিউল বিপর্যয় ঘটছে গত সোমবার ও বুধবার। এতে আমরা ক্ষতির মুখে পড়ি। তবে বুধবার সকাল থেকে সংকট কেটে গেছে। গত দুদিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার মানুষের চাপও বেড়েছে। আমরা মানুষকে সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কোথাও যেন হয়রানির শিকার না হতে হয় এজন্য আমাদের সংগঠনের দায়িত্বশীলরা সচেতন রয়েছেন।

চাঁদপুরসহ দেশের যেসব এলাকায় শুক্রবার উদযাপন হবে ঈদুল ফিতর

প্রস্তুত কক্সবাজার, যেখানে ঘুরতে পারেন পর্যটকরা

চাঁদপুরে ৬ মুসল্লিকে নিয়ে ঈদের নামাজ আদায়

মুরাদনগরে ঝড়ে গাছচাপায় নারীর মৃত্যু

কুমিল্লা কারাগারেই মায়ের সঙ্গে ঈদ করছে ১৫ শিশু

চট্টগ্রামের টেরি বাজারে আগুনে দুজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামে বহুতল মার্কেটে আগুন, দুইজনের মৃত্যু

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, স্বস্তিতে ফিরছে যাত্রীরা

ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা ছুটছেন পাহাড়, সমুদ্র, চা বাগানে

তেলের পাম্পে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি, ইটভাটা মালিক আটক