রাউজানের কদলপুরে বিদেশ ফেরত যুবদল নেতা নাসির উদ্দিনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৬ আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সৈয়দুল করিম (২৭), আব্দুল মান্নান (৩৭), ইউনুচ মিয়া (২৪), আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১), আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকন (৪৮) ও আজগর আলী (৩৯)।
মঙ্গলবার বিকেলে বায়েজিদ থানায় এক সংবাদ উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, গত ৭ মে রাত পৌনে দশটার দিকে রৌফাবাদ শহীদ মিনারের পাশে বাঁশ বাড়িয়া গলিতে দেলোয়ারের ভাড়াঘরের সামনে কতিপয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী হাসান ওরফে রাজুকে গুলি করে। রাউজান থানার কদলপুর গ্রামের বাসিন্দা এ যুবকের মৃত্যুতে তার মা সকিনা বেগম গত ৯ মে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা দায়ের করেন।
সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল করিমের নেতৃত্বে টিম গঠন করে অভিযান শুরু হয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুততার সঙ্গে আসামি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
আমিরুল ইসলাম জানান, গত ১১ মে দুপুরে কক্সবাজারের সুগন্ধা সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে মূল আসামি সৈয়দুল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে সে ভিকটিম হাসানের বুকে গুলি করার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তার বাসা থেকে ঘটনার রাতে পরিহিত পোশাক, পিস্তল, ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়। সৈয়দুল করিমের বিরুদ্ধে বায়েজিদ ও চান্দগাঁও থানায় আগে থেকেই একাধিক মামলার রেকর্ড রয়েছে।
একই দিন সন্ধ্যায় আসামিদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করে চালক মো. আব্দুল মান্নানকে ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত সাড়ে দশটায় আরও দুই সহযোগী আসামি মো. ইউনুচ মিয়া ও আয়াতুল্লাহ আলী আদনানকে রৌফাবাদ ব্রিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়।
সিএনজি চালক মান্নানের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে ১২ মে ভোররাতে চাঁন্দগাও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন আরও দুই সন্দেহভাজন আসামি মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকন ও আজগর আলী। খোকনের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় ছয়টিরও বেশি মামলার রেকর্ড রয়েছে।
এএস