মাদারীপুর-১
আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসন। আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এ আসনে এবার ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে গভীর আগ্রহ নিয়ে এলাকার চায়ের দোকানে আড্ডা জমাচ্ছেন। এ আসনে বিভিন্ন দলের ১১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে এ আসনের মোট প্রার্থী ১০ জন।
মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নাদিরা আক্তার। এ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ছেন দলটিরই মনোনয়নবঞ্চিত দুই হেভিওয়েট নেতা। ফলে শিবচর বিএনপি এখন স্পষ্টত তিন ভাগে বিভক্ত। জামায়াতে ইসলামী ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাবলু ফুটবল, বিএনপি থেকে অপর বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা জাহাজ। এ আসনে বিএনপির একাধিক সক্রিয় গ্রুপ ও একাধিক উপগ্রুপ থাকায় অনেকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন দলটির নেতাকর্মী ও বিএনপির সমর্থিত ভোটাররা। ফলে ভোটের লড়াই হবে বিএনপির সঙ্গে দলটির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর। বিএনপির বিভক্তির সুযোগ নিতে জামায়াতে ইসলামীর ১০ দলীয় জোট প্রার্থী রিকশা প্রতীকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার মাদারীপুর জেলার বিএনপির সদস্য ও শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নাদিরা আক্তার বিএনপির মনোনয় পাওয়ায় এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাবলু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে এবং শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল জামান মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহাজ প্রতীকে প্রচার চালাচ্ছেন। গত ২১ জানুয়ারি বিএনপি যুগ্ম মহাসচিবের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি থেকে তাদের দুজনকে বহিষ্কার করা হয়।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার বলেন, আমার পরিবার শহীদ জিয়ার সময় থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবেদিত। দলের দুঃসময়ে আমরা হাল ছাড়িনি। শিবচরে এখন যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিগত সময়ে আমরা রাজপথে একসঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তখন কথা ছিল দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই তার জন্য আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। আমি সবাইকে আহ্বান জানাব ধানের শীষকে বিজয়ী করে দলকে শক্তিশালী করুন।’
সদ্য বহিষ্কৃত মাদারীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী (লাবলু) বলেন, দলের দুর্দিনে নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর পাশে ছিলাম। আমি এলাকার কোনো বিতর্কিত কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমি নির্বাচিত হলে শিবচরে কোনো চাঁদাবাজের স্থান হবে না। দলের দুঃসময়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলাম। তাই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছি । আশা করি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করে জাতীয় সংসদে পাঠাবেন।
সদ্য বহিষ্কৃত শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল জামান মোল্লা বলেন, আমাকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েও ষড়যন্ত্র করে বাদ দেওয়া হয়েছে। শিবচর উপজেলার জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে দেখতে চায়, তাই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহাজ প্রতীকে নির্বাচন করছি। তিনি বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে এ আসনটি বিএনপিকেই উপহার দেব।
মাদারীপুর-১ শিবচরে ১০ দলীয় জোট প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাঈদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা বলেন, আমি ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আমি শিবচরকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে লড়ে যেতে চাই, আমাদের পূর্বপুরুষদের মতো। শিবচরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিরাপত্তা দিতে চাই, মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আকরাম হোসাইন বলেন, এলাকায় নির্বাচন প্রচারের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি, বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি জনগণ যে পরিবর্তন চায় তার জন্য জনগণ আমাদের ভোট দেবে।
এছাড়াও মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির হাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম মিন্টু, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল আলী, গণঅধিকার পরিষদের রাজিব মোল্লা নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন।