গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, শ্যালক ও তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঘাতক মো. ফোরকান মোল্লা এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার রাতে ফোরকানের শ্বশুর মো. শাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে ১৮৬০ সালের প্যানাল কোডের ৩২৮/৩০২/৩৪ ধারায় মামলা (নং-১৭) দায়ের করেন। ফোরকান মোল্লা গোপিনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফোরকান মোল্লা তার স্ত্রী শারমিন খানম ও তিন কন্যাকে নিয়ে গত ছয় মাস ধরে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল এবং ফোরকান প্রায়ই শারমিনকে মারধর করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়, গত ৮ মে ফোরকান তার শ্যালক রসুল মোল্লাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ফোন করে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন। ওইদিন রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে ফোরকান পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্ত্রী শারমিন, শ্যালক রসুল এবং তিন মেয়ে মীম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২)-কে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মর্মান্তিক এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকাল থেকেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ফোরকান তার চাচাতো ভাই আবু মুসাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তিনি গাজীপুরের মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে ঘটনাস্থলে আসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।