নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখা কোরবানির পশুর চামড়া ও বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব চামড়া ও বর্জ্য অপসারণ করে মাটি চাপা দেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে।
সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিনের নির্দেশনায় খননযন্ত্র (ভেকু) ব্যবহার করে লিংক রোডের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা পশুর চামড়া ও বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের রিয়াগোপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে ফেলে রাখা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের আশপাশসহ লিংক রোডের বিভিন্ন স্থানে প্রায় সহস্রাধিক কোরবানির পশুর চামড়া ও বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছিল। প্রচণ্ড গরমে এসব চামড়া পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে আশপাশের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীসহ অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন এবং দুর্গন্ধে বমি করার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যেখানে চামড়া ও বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছিল তার অধিকাংশ অংশ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত। এরপরও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে পুরো এলাকার বর্জ্য অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে এলাকাবাসী ও পথচারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘লিংক রোডের বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে ফতুল্লা ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। জনদুর্ভোগের বিষয়টি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। খাল খননের কাজে ব্যবহৃত ভেকু দিয়ে সড়কে পড়ে থাকা পশুর চামড়া ও বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক মানুষ সচেতনভাবে কোরবানির বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলেন। তবে কিছু অসচেতন ব্যক্তি যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এতে সরকারের অর্থও অপচয় হয়। সড়ক ও জনপরিসর পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।’
এ ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এমএইচ