হোম > সারা দেশ > ঢাকা

চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নৌকায় পারাপারে বাড়ছে ঝুঁকি

আবু মুসা বিশ্বাস, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নৌপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের কমপেক্ষ আটটি গ্রাম জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে তাদের লেখাপড়া হুমকির মুখে পড়েছে। ইউনিয়ন দুটি হলো মিজানপুর ও বরাট।

নদীর ওপারে ইউনিয়ন দুটির কমপেক্ষ ৪০০ পরিবার বসবাস করে। মিজানপুর ইউনিয়নের পাঁচটি এবং বরাট ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সারা বছর নদী পারপার হলেও বর্ষা মৌসুমে নদী পারপারে জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পদ্মায় দ্রুত পানি বেড়ে যাওয়ায় সংগত কারণেই নদী বড় হয়ে গেছে। ফলে পারাপারে আগে যেখানে আধা ঘণ্টা সময় লাগত, এখন লাগে এক ঘণ্টা।

চরাঞ্চলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। প্রায় ৫০ বছর আগে চর কাঠুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ফলে নদীর ওপারে উড়াকান্দা এলাকায় স্থাপন করা হয়। ৩০ বছর পর চর জেগে ওঠায় ওই চরে জনবসতি গড়ে উঠেছে। এখন ওই সাত গ্রামের শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর খেয়া পারাপার হয়েই স্কুলে যায়। তাছাড়া জেলার উত্তরাঞ্চলটি পাবনার বেড়া উপজেলার পাশে হওয়ায় অনেক শিক্ষাথীর্র বেড়া উপজেলার ঢালারচর, দুর্গাপুর প্রভৃতি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। একই ভাবে বর্ষা মৌসুমে খাল ও ডোবা ভরে গেলে বেড়া উপজেলার স্কুলগুলোয়ও তারা যেতে পারে না। এ সময় তাদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হয়। ফলে প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে।

একই ভাবে যারা রাজবাড়ী শহরের নদীর কাছাকাছি শিক্ষাপতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে, বর্ষা মৌসুমে তাদেরও নিয়মিত স্কুলে আসা সম্ভব হয় না।

মৌকুড়ি চরের বাসিন্দা জিহাদ মণ্ডল জানান, তার দুটি ছেলেমেয়ে লেখাপড়া করে। ছেলে ষষ্ঠ ও মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চিন্তাও বেড়ে যায়। নদীতে বড় ঢেউ ও বাতাস থাকলে সেদিন স্কুলে আসা বন্ধ। আবহাওয়া সকালে ভালো থাকলেও বিকালে খারাপ হলে অনেক সময় আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা পরিচিত লোকের বাড়িতে থাকতে হয়। এভাবে পুরো তিন মাস কাটে বিভিন্ন শঙ্কায়।

চর মৌকুড়ি গ্রামের মাদরাসা শিক্ষার্থী ছালেহা খাতুন জানায়, সে নদীর এপারে কাছাকাছি খন্দকার আব্দুল লতিফ মাদরাসায় লেখাপড়া করে। সে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসে। ক্লাস শেষ করে যখন ফিরে যায়, তখন ভীতির মধ্যে থাকে। সকালে বাতাস কম থাকায় ঢেউ ছোট থাকে, বাতাস বাড়লে ঢেউও বড় হয়। তখন ভয় লাগে। অপেক্ষা করতে হয়। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে বর্ষার কয়েক মাস নদী পার হয়ে আসতে হয়।

নদীর পারে অবস্থিত মুন্সী বেলায়েত হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রানী পোদ্দার জানান, তাদের স্কুলে চর থেকে আসা ১২ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। বর্ষা মৌসুমে এ সংখ্যা কমতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার চরাঞ্চল থেকে এই স্কুলে আসা ১২ শিক্ষাথীর্র মধ্যে মাত্র তিনজন আসতে পেরেছে। অন্যরা ভয়ে বা পিতামাতার নিষেধের কারণে আসেনি।

মিজানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতিউর রহমান জানান, ওই চরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তাছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ও বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

নদীতে পিলারের পাশেই ভাঙন, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

নদীভাঙন রোধে মানুষের পাশে থাকাই আমার কর্তব্য: এমপি খোকন তালুকদার

মালচিং পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে শিবচরের কৃষি

সব উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে গেলেন স্বজনরা, পাশে দাঁড়ালেন প্রতিমন্ত্রী

বিএনপি এমপির হস্তক্ষেপে হাটুভাঙ্গা সেতুর টোল আদায় বন্ধ

পুরোনো প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ায় দুই শিক্ষককে অব্যাহতি

রড দিয়ে পিটিয়ে স্কুলশিক্ষকের পা ভেঙে দিল সন্ত্রাসীরা

আজীবন বিএনপি করে মরতে চান আ.লীগ নেতা

পুরোনো প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ, দুই শিক্ষক প্রত্যাহার