হোম > সারা দেশ > ঢাকা

রাজধানীতে ওবায়ল্লাহর খণ্ডিত লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন

জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী

নিহত হাফেজ ওবায়দুল্লাহ (বামে) পুলিশের হাতে আটক ঘাতক শাহীন (ডানে) - ছবি: আমার দেশ

রাজধানীতে ৭ টুকরো করা নরসিংদীর শিবপুরের ওবায়দুল্লাহর লাশ জানাযা শেষে মঙ্গলবার রাতেই নিজ গ্রাম শিবপুরের তাতারকান্দিতে দাফন করা হয়েছে। বাড়ির পাশে ঈদগাহে তার সামাজিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া নরসিংদীর ছেলে ওবায়দুল্লাহ ওরফে বাদলের লাশের ৬টি অংশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। গতকাল (৩ মার্চ) মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

ওবায়দুল্লাহর লাশের বুকের অংশটি এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। লাশের পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই অংশ ছাড়াই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর তার লাশ ৭ টুকরা করে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ফেলা হয়। শুক্র ও শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টন, গুলিস্তান ও কমলাপুর থেকে শরীরের কাটা হাত, পা ও মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

আঙুলের ছাপ সংগ্রহের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হয় এসব লাশের অংশ নরসিংদীর শিবপুরের ওবায়দুল্লাহর শরীরের। এ ঘটনায় শাহিন আলম (২৫) নামে তার এক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে।

হাফেজ মো ওবায়দুল্লাহ (৩০) নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তাতারকান্দি গ্রামের কৃষক হামিদ মিয়ার বড় ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ওবায়দুল্লাহ সবার বড়। এলাকার লোকজন তাকে বাদল নামে চেনে।

মঙ্গলবার সকালে হাফেজ ওবায়দুল্লাহর লাশ আনতে মর্গে গিয়েছিলেন বাবা হামিদ মিয়া, চাচা মজিবর ও ছোট ভাই জলিল মিয়া। ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তরের পর লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে ওবায়দুল্লাহর লাশের অংশগুলো নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি পৌছেন তাঁরা।

নিহতের চাচা মজিবর রহমান জানান, ওবায়দুল্লাহর লাশের ৬টি অংশ নিয়েই ফিরতে হয়েছে। বুকের অংশটা এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মঙ্গলবার রাতেই বাড়ির পাশের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পরিবারের বড় ছেলে হাফেজ ওবায়দুল্লাহ আরবিতে পড়েও বাংলায় এইচএসসি শেষ করে সংসারের অভাব দূর করতে বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়ে ব্যর্থ হয়। প্রায় দুই বছর আগে রাজধানীর তিনশ ফুট এলাকায় একটি হোটেলে চাকরি নেয় ওবায়দুল্লাহ। ওই হোটেলের সহকর্মীদের সঙ্গে কমলাপুরের কবি জসীমউদদীন রোডের একটি মেসে থাকতেন। কিছুদিন পর ওবায়দুল্লাহ পেশা পরিবর্তন করে একটি হোমিও ওষুধ প্রতিষ্ঠানে কাজ নেন।

ওবায়দুল্লার মা রানী বেগম জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ বাড়িতে এসে পরদিন ভোট দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যায়। মারা যাওয়ার আগের দিন রাতেও ছোট ভাই জলিলের সঙ্গে কথা হয় ছেলের।

পরিবারের বড় ছেলে ওবায়দুল্লাহ হাফেজিয়া পড়েছেন। পাশাপাশি বাংলায় এইচএসসি শেষ করে সংসারের হাল ধরেছিলেন। চেয়েছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মার কষ্ট লাগব করতে। আর সেই আশায় বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকাও জমা দিয়েছিলেন।

কিন্তু তাতে ব্যর্থ হন। আর সেই লক্ষ্যেই বাড়ি থেকে গিয়ে ঢাকায় প্রথমে হোটেলে পরে হোমিও ওষুধ প্রতিষ্ঠানে কাজ নেন। নির্বাচনের দিন ভোট দিয়ে যাওয়ার আগে দাদার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৭ রমজানে বাড়িতে দোয়া মাহফিল আয়োজন করবেন এবং তাতে ওবায়দুল্লাহ উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তাকে বাড়ি ফিরতে হলো ৬ টুকরো লাশ হয়ে।

তাতারকান্দি গ্রামে নিহত ওবায়দুল্লাহর বাড়িতে গেলে চোখে পড়ে, তার মা রানী বেগম ও বোন মিলি আক্তার অজোরে কান্না করছেন। তাদের কান্নার আহাজারি যেন কেউ থামাতে পারছেন না। আর পুত্রশোকে বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন মা রানী বেগম।

ওবায়দুল্লাহর বাবা হামিদ মিয়া জানান, ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নেয়ার মতো নয়। পুরাতন বাড়িতে থাকা যাচ্ছেনা বিধায় ওবায়দুল্লাহর চাকরির টাকায় একটি টিনের ঘর তৈরী করা হয়। ওবায়দুল্লাহ নেই, এটা যেনো বিশ্বাসই হচ্ছে না। তাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

ওবায়দুল্লাহকে কেন হত্যা করা হয়েছে সেই বিষয়ে পুলিশের বরাত দিয়ে বাবা হামিদ মিয়া জানান, ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে একই বাসায় থাকতো হোটেল কর্মচারী শাহীন আলম, তার বাড়ি হবিগঞ্জে। রাতে মোবাইলে জোরে কথা বলা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

সেই জেরেই ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে শাহীন আলম। হত্যার পর ওবায়দুল্লাহর লাশ ৭ টুকরা করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শাহীন নিজেই ফেলে দেন। এই হত্যায় গ্রেপ্তারকৃত শাহীন আলমকে আটকের পর প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন শাহিন।

ওবায়দুল্লাহ ও শাহীন তিন মাস যাবৎ কমলাপুরের কবি জসীম উদদীন রোডের একটি মেসে থাকতেন। শাহীন মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের কর্মচারী। আর এ বাসাতেই ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করা হয়।

পুলিশের বিবরণ দিয়ে ওবায়দুল্লাহর বাবা আরও জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে শাহীন আলম হোটেলে কাজ শেষে বাসায় ফেরে। তখন শাহীন বাইরে থেকে খাবার নিয়ে ওবায়দুল্লাহকে খেতে দেয়। আর সেই রাতেই শাহীন ওবায়দুল্লার উপর ক্ষিপ্ত হয়। খাবার খাওয়ার পর রুমে মোবাইলে জোরে কথা বলা নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়।

এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধৌত করতে গেলে শাহীন পেছন থেকে তাঁকে চাপাতি দিয়ে তাঁর ঘাড় ও গলায় আঘাত করে। এতে ওবায়দুল্লাহর মৃত্যু হয়।

এ অবস্থায় নিজেকে বাঁচাতে লাশটি ৭ টুকরো করে শাহীন। আর টুকরো শেষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। পুলিশ চার জায়গা থেকে লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। বাকি অংশটুকু উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ। লাশের কিছু অংশ পরিবহনে কালো পলিথিন মুড়িয়ে ফেলে। কিছু অংশ বালতি ও গামছায় মোড়ানো অবস্থায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নেয়।

সিসিটিভি ফুটেজে শাহীনের সাইকেল আরোহী যুবককে দেখতে পেয়ে শাহীনের বাসায় অভিযান চালিয়ে সেই সাইকেল ও হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ।

গাজীপুরে শিশু রাহিম হত্যার রহস্য উন্মোচন, ভাইসহ গ্রেপ্তার ২

কুলিয়ারচরে শিশুহত্যার ২৮ দিন পর রহস্য উদঘাটন

তালাবদ্ধ অফিসের সামনে বসলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী, আসেননি কোনো কর্মকর্তা

শরীয়তপুরে ১০ কেজি করে চাল কম পেলেন জেলেরা

মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জে নরসুন্দা দখলের মহোৎসব, কর্তৃপক্ষ নীরব

মাদক-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিল প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম

হারানো টাকা ফেরত দিয়ে চা বিক্রেতার দৃষ্টান্ত স্থাপন

রূপগঞ্জে তিন নারীকে হেনস্তার ঘটনায় মামলা পাল্টা মামলা, গ্রেপ্তার ৪

ঢাকা বিভাগীয় সম্মাননা পেলেন নরসিংদীর ৫ অদম্য নারী