হোম > সারা দেশ > ঢাকা

ধামরাইয়ের ঘটনায় ধর্ষণ নয় ছিনতাইয়ের মামলা, গ্রেপ্তার ৪

উপজেলা প্রতিনিধি, ধামরাই (ঢাকা)

ঢাকার ধামরাইয়ে আলোচিত গণধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধর্ষণের কোনো অভিযোগের ‘সত্যতা না পাওয়ায়’ ভুক্তভোগীর কথিত স্বামী আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ছিনতাইয়ের মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।

শনিবার সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান।

পুলিশ জানায়, উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন গ্রামে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন— জিয়োস চন্দ্র মনি দাস, শ্রী চরণ মনি দাস, শুভন চন্দ্র মনি দাস ও দিপু চন্দ্র মনি দাস। তারা সবাই ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন গ্রামের বাসিন্দা।

গত ১৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতে রামরাবন গ্রামে শান্তি মনি দাস নামের এক নারীর বাড়িতে ভুক্তভোগীকে গণধর্ষণ এবং তার কাছে থাকা টাকা ও গহনা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে মোট ৮ হাজার ৬৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে জিয়োস চন্দ্র মনি দাসের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, শ্রী চরণের কাছ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা, শুভনের কাছ থেকে ২ হাজার ৩২০ টাকা এবং দিপু চন্দ্র মনি দাসের কাছ থেকে ২ হাজার ৫৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়। তদন্তে তারা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া শ্রী চরণ মনি দাসের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় পূর্বের একটি মাদক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন,“রামরাবন এলাকার ঘটনায় ধর্ষণের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে আব্দুর রাজ্জাক ছিনতাইয়ের অভিযোগ করলে মামলা গ্রহণ করা হয় (মামলা নং-৪১)। মামলার পর তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে আমার দেশ পত্রিকায় গণধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের দুই পর্বে সংবাদ প্রকাশিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আত্মসম্মানের ভয়ে সেই ভিকটিম নারী বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা যায়, মানিকগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং ধামরাই উপজেলার পাবরাইল এলাকার এনডি কনস্ট্রাকশন ফার্মের গাড়িচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক তার কথিত স্ত্রীকে নিয়ে ঘটনার দিন বালিয়াটি প্রাসাদে ঘুরতে যান।

এ সময় এনডি কনস্ট্রাকশন ফার্মের নিরাপত্তাকর্মী ও রামরাবন গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ চন্দ্র মনি দাস তাদের সঙ্গে ছিলেন। একই প্রতিষ্ঠানে কাজের সুবাদে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ওইদিন সন্ধ্যার দিকে তারা (আব্দুর রাজ্জাক ও ওই নারী) কৃষ্ণ চন্দ্র মনি দাসের বাড়িতে যান। রাতে অবস্থানের কারণে পরে সেখান থেকে কৃষ্ণ চন্দ্র মনি দাস তার বোন শান্তি রানী দাসের বাড়িতে নিয়ে যান তাদের।

প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে আব্দুর রাজ্জাককে বেঁধে রেখে ভুক্তভোগী নারীকে পাশের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কয়েকজন হিন্দু যুবক মিলে তাকে ধর্ষণ করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে তিনি কান্নাকাটি শুরু করেন। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা জড়ো হয়। কিন্তু ততক্ষণে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেয়।

ঘটনার পর আব্দুর রাজ্জাক ও তার কথিত স্ত্রীও আড়ালে চলে যান। স্বাভাবিক কারণেই এ নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে চলে আসায় পুলিশ খোঁজখবর নিতে থাকে। এর আগে পুলিশের পক্ষ জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন- টাকা ও গহনা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, তবে ধর্ষণের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক ও তার কথিত স্ত্রীকে খুঁজতে থাকে পুলিশ।

সর্বশেষ জানা যায়, আব্দুর রাজ্জাক ধর্ষণ নয়, ছিনতাইয়ের মামলা করেছেন। আর সেই মামলায় উল্লিখিত চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে ভুক্তভোগী নারী প্রকাশ্যে না আসায় ধর্ষণের অভিযোগ ও তিনি আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী কি না- সে বিষয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেল।

যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে ঘোড়া ও জবাই করা ঘোড়ার মাংস জব্দ

বিয়ে বাড়িতে সাউন্ড বক্স নিয়ে বিরোধ থেকে ইমাম বরখাস্ত ও পুনর্নিয়োগ

মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

অস্ত্র তৈরির কারখানায় যৌথবাহিনীর অভিযান, অস্ত্রসহ আটক ১

থানার সামনে থেকে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

মেজর আখতারের নেতৃত্বে বিএনপিসহ ২ শতাধিক মানুষের জামায়াতে যোগদান

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে খুতবায় বয়ানের আহ্বান

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে পুরোদমে নির্বাচনি প্রচারে বিএনপির প্রার্থী

বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকের চালক-হেলপার নিহত, আহত ৩০ যাত্রী

ছাত্রসমাজ আর কোনো ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না : সাবেক শিবির সভাপতি