মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় শুকনো মৌসুমে ক্ষেতের আইল ধরে সড়কে যাওয়া গেলেও বর্ষাকালে পুরোপুরি বদলে যায়। মাদবরেরচর ইউনিয়নের নতুনকান্দি গ্রামের চরাঞ্চলে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরের মানুষের মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতের পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
পদ্মার সঙ্গে প্রায় সংযুক্ত এই বড় খালটি বর্ষা এলেই পানিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন সেই খাল পার হওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নেই কোনো সেতু, নেই নির্দিষ্ট মাঝি। দুই পাড়ে বাঁধা দড়িই পারাপারের একমাত্র ভরসা।
চরের বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টিতে নদীর পানি বাড়লে বা বর্ষার সময় খালটা পুরো নদীর মতো হয়ে যায়। নৌকা ছাড়া পার হওয়ার উপায় নেই। জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যেতে হলে অনেক কষ্ট করতে হয়।’
নারী বাসিন্দা কলি বেগম জানান, ‘অসুস্থ রোগী নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে ভোগান্তির শেষ নেই। একবার একজনকে সাপে কাটছে, কাঁধে করে আনতে হয়েছে। পরে সে মারা গেছে। গাড়ি চলার কোনো ব্যবস্থা নেই।’
বন্যা, নদীভাঙন, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, প্রচণ্ড শীতসহ সব ধরনের দুর্যোগে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্ভোগের শিকার হয় এই চরের বাসিন্দারা। খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময় ভয়াবহ রূপে দেখা যায় তাদের মাঝে।
স্থানীয়দের দাবি, ‘দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। না হলে দড়ি টেনে নৌকা পারাপারের এই ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপনই হয়ে থাকবে তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা।’
শিবচরের ইউএনও এইচ এম ইবনে মিজান জানান, আমরা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা এই অঞ্চলের লোকজনকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আগামীতে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।
জেডএম