নরসিংদীর শিবপুরে প্রাইভেট পড়াতে রাজি না হওয়ায় চৌঘরিয়া আবদুল মান্নান ভূঁইয়া আদর্শ বিদ্যাপীঠের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মনজিল মোল্লার ওপর হামলা করে মারধর করেছে বহিরাগত বখাটে দুর্বৃত্তরা। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন ওই শিক্ষক।
এ সময় হামলার সঙ্গে জড়িতদের দুজনকে আটক করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তারা হলো শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের পূবেরগাঁও গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে রাশিদুল ইসলাম (২৬), একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ইমন (২০)। তবে মজলিসপুর গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে ইমরান (১৯) পালিয়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে মাঠে চলে আসে এবং বিক্ষোভ শুরু করে। খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হামলাকারী দুজনকে আটক করে। পরে আটককৃতদের থানায় নিয়ে যেতে চায়।
এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে।
শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপে শিবপুর মডেল থানার পুলিশের এসআই জামান, হাসানুজ্জামানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মু. আব্দুর রহিম, থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলতাফ হোসেন, শিবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হারিস রিকাবদার, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান।
এ সময় তাদের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শান্ত হয় এবং আটককৃতদের বেলা ৩টায় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আহত শিক্ষক মনজিল মোল্লা বলেন, ‘স্কুলের গেটে তিন যুবক আমাকে বলেন তাদের ভাইকে প্রাইভেট পড়াতে। আমি অস্বীকৃতি জানালে তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং আমাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। তাদের আঘাতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে খবর পেয়ে শিক্ষক, ছাত্র ও স্থানীয়রা আমাকে স্কুলের ভেতরে নিয়ে যায়।'
প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, 'বেলা ১১টার দিকে অফিসে স্কুলের দপ্তরি দৌড়ে এসে বলেন, মনজিল স্যারকে স্কুল গেটে কে বা কারা মারধর করছে। আমিসহ স্কুলের অন্য শিক্ষকদের নিয়ে স্কুল গেট থেকে মনজিল স্যারকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করি।’
এ সময় তারা পালিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক মুজাহিদ ও দপ্তরি খবির উদ্দিন একটি মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত তাদের পেছনে ধাওয়া করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুজনকে আটক করে স্কুলে নিয়ে আসেন। আমি বিষয়টি তাৎক্ষণিক ইউএনও, থানার ওসি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানাই।
এ ঘটনায় ইটপাটকলে নিক্ষেপে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং পুলিশ আহত হয়। ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান জানান, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং পুলিশ আহত হয়। ঘটনাটি দুঃখজনক। শিক্ষকের ওপর হামলা হামলার নিন্দা জানাই।'
শিবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানাই এবং বিচার দাবি করছি।’
শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আমাদের গাড়িতে হামলা করা হয়েছে। পুলিশ আহত হয়নি। থানায় তিন জনের নামে মামলা হয়েছে। দুজন থানায় আটক রাখা হয়েছে। আগামীকাল তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি। দোষীদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার করার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।'