বিনা টিকিটে রেলভ্রমণ
নরসিংদী জেলার মনোহরদীর আলামিন নামে এক যুবক বিগত ১০ বছরে বিভিন্ন সময়ে নরসিংদী থেকে রেলে ঢাকা যাতায়াতকালে বিনা টিকিটের বকেয়া হিসেবে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
গত ২৪ মে (রোববার) বিকেলে নরসিংদী রেলস্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে ১২৭টি টিকিট কেনার মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করেন।
মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালিয়া গ্রামের মো. করম আলীর ছোট ছেলে আলামিন (৩০)। পেশায় একজন কৃষক। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। অনেকটা অভাব-অনটনের মধ্যেই চলে তার সংসার। এর পরও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসা। এই ভালোবাসার টানে বিগত প্রায় ১০ বছর ঢাকায় দলীয় কার্যক্রমে নিয়মিতই অংশগ্রহণ করেন আলামিন। সে সময় একদিকে অর্থের অভাব, অন্যদিকে সময়ের স্বল্পতা আবার পুলিশি ভয়। এই যখন অবস্থা, তখন তিনি অনেক সময় রেলে নরসিংদী থেকে ঢাকায় যাতায়াতকালে টিকেট কাটতে পারেননি। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আলামিনের মনে অনুশোচনা দেখা দেয়। বিগত ১০ বছরে রেলের টিকেট না কেটে সরকারকে যে ফাঁকি দিয়েছেন তা নেহাত অন্যায়। এই চেতনাবোধ থেকে তিনি রেলের বিগত দিনের ফাঁকি দেওয়া বকেয়া অর্থ জমাদানের জন্য মনস্থির করলেন। এরই অংশ হিসেবে নরসিংদী রেলস্টেশনে উপস্থিত হয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নানের হাত থেকে ১২৭টি টিকিট প্রতিটি ১২৫ টাকা করে ১০ হাজার ১৬০ টাকার টিকিট কেনার মাধ্যমে রেলের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন।
এ সময় রেলের নরসিংদী স্টেশনের প্রধান বুকিং কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার, টিসি মোশারফ হোসেন, রেল ফাঁড়ি ইনচার্জ নাজিম উদ্দিন ও আলামিনের দলীয় সহযোগী মো. সোলাইমান উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় রেলের নরসিংদীর স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘নরসিংদীর আলামিন ভাই যে কাজটি করেছেন তা অত্যন্ত মমত্বের কাজ করেছেন। বিগত দিনে রেলে ভ্রমণ করতে গিয়ে টিকিট কাটতে না পেরে রাষ্ট্রীয় অর্থ ফাঁকি দিয়েছেন। এখন তিনি বুঝতে পেরে তা জমা দিয়ে উদার মনের পরিচয় দিয়েছেন। তার জন্য রেলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।’
এ বিষয়ে আলামিন মিয়া জানান, ‘আমি ছোটকাল থেকেই বিএনপিকে ভালোবাসি, তাই ছাত্রাবস্থায়ই ঢাকায় বিএনপির বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ছুটে যেতাম বাড়িতে কাউকে কিছু না বলেই। আর তখন তেমন টাকা-পয়সাও ছিল না। কমলাপুর রেলস্টেশন গিয়ে পায়ে হেটেই কর্মসূচিতে যোগ দিতাম। তখন আমার নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করার কারণে পুলিশি ভয়ে রেলের টিকিট পর্যন্ত কাটতে যেতাম না। স্টেশনের আশপাশে লুকিয়ে থাকতাম কখন ট্রেন আসবে আর চুপ করে উঠে যেতাম। আজ আমার ভুল বুঝতে পেরেছি, তাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আমার এই রেলের প্রতি যে বকেয়া তা পরিশোধ করতে পেরে খুশি।