মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় সোহেল মুন্সী নামে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে ঘাতকরা। গত বুধবার রাতে উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল মুন্সী কালুরগাঁও গ্রামের মৃত ইসমাইল মুন্সীর ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে খাবার শেষে সোহেল তার বসতবাড়ির পূর্বপাশের ঘরে একাই ঘুমাতে যান। তার স্ত্রী নুপুর বেগম কিছুদিন আগে সন্তান প্রসব করায় তিনি শাশুড়ি সেফালি বেগমের সঙ্গে পাশের অন্য একটি ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। গভীর রাতে বাড়ির উঠানে আকস্মিক শব্দ শুনতে পেয়ে সোহেলের মা ও স্ত্রী ঘুম থেকে জেগে ওঠেন।
তারা ঘর থেকে বের হয়ে দেখতে পান, উঠানে সোহেলের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দাউদাউ করে জ্বলছে। একই সময়ে উঠানের মাটিতে সোহেল মুন্সীর রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা সোহেলকে ঘুম থেকে ডেকে ঘর থেকে বাহির করে আনে। এরপর বাড়ির উঠানেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের কাটা জখম ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর দুর্বৃত্তরা নিহতের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। সোহেল সিডার চর এলাকা থেকে ভাঙ্গারি মালামাল এনে বিক্রি করতেন। এর আগে ২০২২ সালে বিদেশি মদসহ সোহেল র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
লৌহজং থানা অফিসার ইনচার্জ বোরহান উল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই আমরা দ্রুত ফোর্স পাঠিয়েছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন বলেন, খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ এসেছে, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
এএস