বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এমপি বলেছেন, জামায়াত-ইউনূস চক্র তরুণদের বোকা বানিয়ে দেশ ধ্বংস করছে, আসিফ-হাসনাতরা চিটার-বাটপার। আমি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিলাম যে আমাদের নতুন জেনারেশন নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে এই দেশে নানা চক্রান্ত করে, গুপ্ত সংগঠন সৃষ্টি করে একটি রাজনৈতিক দল, যার নাম জামায়াত। সেই রাজনৈতিক দলটি ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে চারটি জেনারেশন ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এখন লেখাপড়া নেই, খেলাধুলা নেই, সংগীত-সংস্কৃতি নেই, এমনকি প্রকৃত ধর্ম পালনও নেই। এখন আছে শুধু কীভাবে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে যুবসমাজ ও ছাত্রসমাজকে ধোঁকা দিয়ে, তরুণদের বোকা বানিয়ে মিছিলে নিয়ে তাদের জীবন ধ্বংস করে নিজেদের আখের গোছানো যায়। সেই চক্রান্তকারী একটি প্রজন্ম সৃষ্টি করেছিল জামায়াত এবং ইউনূস। আর সেই চক্রান্তের মাধ্যমে আপনারা দেখেছেন, যাদের বয়স এখনও ৩০ বছর হয়নি, তারা মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করে, উপদেষ্টা হয়ে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর কোটি কোটি টাকা দাবি ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘অষ্টগ্রাম ব্লাড ব্যাংক’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ড. ইউনূস, জামায়াত এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন।
ফজলুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পরে দুইজন লোককে আজ দেখলাম। একজন মন্ত্রী ছিল (আসিফ মাহমুদ), গিয়ে ডিসিকে বলছে, কুমিল্লার রাজস্ব ভাণ্ডারের ১৫ কোটি টাকা আমাকে দেন। না দিয়ে উপায় নেই, ১৫ কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছে। আরেকজন, তার নাম হাসনাত আবদুল্লাহ, তিনি এখন এমপি। তিনি গিয়ে ডিসি সাহেবকে বলছেন, আমাকে ১০ কোটি টাকা দিয়ে দেন। তারা এখন অনেক কথা বলবে। এদের মতো অমানুষ, চিটার, বাটপার এদের মতো মানুষ ধ্বংস করার কোনো মেশিন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আবিষ্কার হয়নি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে অষ্টগ্রাম ব্লাড ব্যাংকের তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি দুঃখ করে বলতাম, আমাদের জেনারেশন নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু আজ আমি এই অষ্টগ্রামে এসে আপনাদের প্রতি, বা তোমাদের প্রতি, অবনত মস্তকে বলছি তোমরা মহৎ কাজ করছ, তোমরা মহৎ মানুষ, তোমরাই আগামীর শক্তি।
অষ্টগ্রাম ব্লাড ব্যাংকের মানবিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, মুমূর্ষু মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদানের মতো মহৎ কাজ আর হতে পারে না। অষ্টগ্রাম ব্লাড ব্যাংক তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাচ্ছে। এই ব্লাড ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত যারা, তোমরা আমার সন্তানের মতো। তবুও আমি তোমাদের সবাইকে সালাম জানাই। এই মহৎ কাজের জন্য সর্বদা আমি তোমাদের পাশে আছি।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মানবসেবায় গৌরবোজ্জ্বল ৫ বছর পূর্ণ করা স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘অষ্টগ্রাম ব্লাড ব্যাংক’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় সদস্যদের মধ্যে ৬০০টি টি-শার্ট বিতরণ করা হয়। দুপুর ১২টায় অষ্টগ্রাম উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক জমকালো আলোচনা সভার মাধ্যমে সংগঠনটির ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক হাফেজ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, অষ্টগ্রাম সদর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন আশরাফি, অষ্টগ্রাম থানার ওসি মো. রুকনুজ্জামান এবং অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম আক্তার প্রমুখ। এছাড়াও স্থানীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিগত ৫ বছরের সেবামূলক কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৬৯৫ ব্যাগ রক্তদান সম্পন্ন করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছে। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে নজরুল নামের এক রক্তদাতা একাই ১৫১ বার রক্তদানের এক অনন্য ও অনুপ্রেরণামূলক রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।
সংগঠনের পরিচালক মেহফুজ চৌধুরী, ফয়সাল, ফাইজুল ও জুনাইদ জানান, বর্তমানে ৩০ জন পরিচালক সার্বক্ষণিকভাবে পুরো কার্যক্রম মনিটরিং করছেন। এছাড়া অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলাসহ সংগঠনের নিবন্ধিত মোট ৫৯১ জন সদস্য দিন-রাত মানুষের প্রয়োজনে রক্তদানে সদা প্রস্তুত থাকেন। বিভিন্ন অঞ্চলের আরও ৬০০ সদস্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অষ্টগ্রাম ব্লাড ব্যাংকের সকল রক্তদাতা ও সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং আগামী দিনেও এই মানবিক সেবার ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও রক্তসৈনিকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এআরবি