খুলনায় এক জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নের মশিয়ালী গ্রামে শোকর আকুঞ্জীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাটি খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) অন্তর্গত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার সকালে ঘটনাস্থলে যান। তিনি ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে খানজাহান আলী থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির সৈয়দ হাসান মাহামুদ টিটো বলেন, আটরা-গিলাতলা ইউনিয়নে ধানের শীষের চাইতে দাঁড়িপাল্লা দ্বিগুণের বেশি ভোট পেয়েছে। তবে খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী ঘোষণা করায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এলাকার দাঁড়িপাল্লার সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। তারাই মূলত এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি আরো জানান, শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতে ইসলামীর রুকন এবং ইউনিট সভাপতি আর ছোট ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ছাত্রশিবিরের মশিয়ালি ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যরা ভয়ে আতঙ্কে তটস্থ হয়ে আছেন। বৃদ্ধ শোকর আকুঞ্জি বলেন, শুরুতেই টের পাওয়ায় আমার জানে বেচে গেছি। না হলে সবাইকে পুড়ে মরতে হতো। সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের শেষ করে দিতে চেয়েছিল।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল খুলনা-৫ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকির ঘটনাস্থলে যান এবং তাদের খোঁজখবর নেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
খানজাহান আলী থানার ওসি হাওলাদার সানোয়ার হোসাইন মাসুম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্তরা লিখিত অভিযোগ করলে কাজ করতে সুবিধা হবে।