ঈদুল ফিতরের ছুটতে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
ঈদের ছুটিকে ঘিরে নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে উল্লাস বিনোদন পার্কে ছিল সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর উপস্থিতি। পার্কটিতে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শিশুদের বিভিন্ন রাইডে উঠতে দীর্ঘ সময় ধরে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ১০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য প্রবেশমূল্য ১০০ টাকা, ১০ বছরের নিচে ৫০ টাকা এবং ৩ বছরের নিচে শিশুদের জন্য প্রবেশ ফ্রি। এছাড়া বিভিন্ন রাইডের টিকিটমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে পানসি বোট ও ফ্রিজবি ৫০ টাকা, ইচিং-বিচিং ও বাম্পার বোট ১০০ টাকা এবং রেসিং রাইড ৩০০ টাকা।
অন্যদিকে বনবিলাস চিড়িয়াখানায়ও ছিল দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের প্রথম দিনে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে অনেকেই বাইরে বের হতে পারেননি। ফলে দ্বিতীয় দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হন অনেকে।
এছাড়া হাদিস পার্ক ও জাতিসংঘ শিশু পার্কেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এসব স্থানে ঈদের ছুটিতে দিনভর মানুষের ভিড় অব্যাহত ছিল।
খালিশপুরের ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কেও দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে রাইডগুলো পুরনো এবং পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় কিছু দর্শনার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নগরীর অঘোষিত বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত ৭ নম্বর ঘাট, খানজাহান আলী রূপসা সেতু ও ময়ূরী আবাসিক এলাকায় ছিল মানুষের ভিড়। বিশেষ করে খোলা জায়গা থাকায় ময়ূরী আবাসিক এলাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে দেখা গেছে অনেককে।
৭ নম্বর ঘাটে ঘুরতে আসা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “খুলনা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বিভাগ হলেও এখানে পর্যাপ্ত মানসম্মত বিনোদন কেন্দ্র নেই। যেগুলো আছে, তার অনেকগুলোই অচল বা মানহীন। বেশি খরচের কারণে মানুষ পার্কের পরিবর্তে উন্মুক্ত স্থানেই সময় কাটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।”