মেহেরপুরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে জনবল ও চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবার মান তলানিতে। জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন স্টাফরা। কেন্দ্রটিতে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে। প্রায় দেড় দশক ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন। ফলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে সেবা নিতে আসা স্থানীয়রা পড়ছেন ভোগান্তিতে।
প্রতিষ্ঠানটিতে ৮ জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও তিনটি পদই শূন্য। একজন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলে সে পদটিও খালি। জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রটির সেবার মান তলানিতে।
মেহেরপুরের প্রসূতি মায়েদের কাছে এখনো একমাত্র ভরসার জায়গা কেন্দ্রটি। দেওয়া হয় গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। সেবা দিতে গিয়ে অনেক স্টাফকে অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে। এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি কিংবা ব্লাড গ্রুপিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই । অপারেশন থিয়েটার থাকলেও এনেস্থিসিয়া ডাক্তারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন। একই সঙ্গে ওষুধের সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বাছিরুন নেছা বলেন, আমার চাকরির বয়স ২৯ বছর। এখানে ৩ বছর ধরে কর্মরত আছি। এখানে জনবলের ব্যাপক সংকট থাকায় অতিরিক্ত সময় ডিউটি করতে হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন গর্ভবতী নারী সেবা নিতে আসেন। তাদের ওজন নেওয়া, প্রেসার মাপা, কার্ড পূরণ করা, চেকআপ করাসহ যাবতীয় কাজ আমাদের করতে হয়। ওষুধ সংকটের কারণে আমরা বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কেনার জন্য লিখে দেই। সিজার অপারেশনের সুযোগ না থাকা রোগীদের বাইরে রেফার্ড করা হয়।
কেন্দ্রটিতে সেবা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে জনবল সংকটের কারণে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। আমি প্রায় দু ঘণ্টা ধরে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছি। এখনো চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পাইনি।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. রুমানা হেলালী বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে আমরা ২৪ ঘণ্টায় সেবা দিয়ে যাচ্ছি। অনেক রোগীর হিমোগ্লোবিন কম থাকে, ব্লাড ট্রান্সমিশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তখন সমস্যায় পড়তে হয়। ইমারজেন্সি কোনো রোগীর সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হলে সেই ব্যবস্থা এখানে নেই। এখানে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকলে আমরা পরিপূর্ণভাবে সেবা দিতে পারতাম।
মেহেরপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুস সাত্তার বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের নির্দেশনা দিলে আমরা জনবল সংকটের কার্যক্রম সম্পন্ন করব তখন সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।