চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে ঈদের দিন স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর আহতদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের নামাজ শেষে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দুপুরের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে দুপুর দেড়টার দিকে ছত্রপাড়ার মৃত ইংরেজ কাজির ছেলে নাজিম কাজি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
নাজিম কাজির মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় ভিন্নমত রয়েছে। কেউ বলছেন তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।
এ ঘটনায় কুবির কাজি গ্রুপের কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিলেন মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে কুবির কাজি এবং নাবু কাজির ছেলে শিমুল কাজি। শিমুল কাজিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির জাহাঙ্গীর গ্রুপ—যার নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি লাল খাঁ এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীর—এই হামলায় জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তারা সশরীরে উপস্থিত থেকে সংঘর্ষে অংশ নেন।
এলাকাবাসী জানায়, দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জমি ও পূর্বের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে ঈদের দিন এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে ছত্রপাড়া মসজিদের সামনে আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত কুমার ধর জানান, সংঘর্ষের পর অন্তত পাঁচজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে আছিয়া বেগম ও শরিফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান জানান, হিন্দুদের পরিত্যক্ত জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত। একজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান এবং আহতদের মধ্যে আরও একজন কুষ্টিয়া নেওয়ার পথে মারা যান। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।