হোম > সারা দেশ > খুলনা

মনিটরিংয়েও নিয়ন্ত্রণে আসছে না বাজার, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

আমার দেশ ডেস্ক

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মনিটরিংয়ের পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না বাজার। চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি পণ্য। এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ক্রেতা সাধারণ।

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সোনারগাঁয়ে কাঁচাবাজারগুলোতে পণ্যের দাম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করার পরও কাঁচাবাজারগুলোতে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। গত শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির দিনে কিছু কিছু পণ্যের দাম আরো বেড়েছে। এদিকে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বৃহস্পতিবার সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তায়, উদ্ধবগঞ্জ, বৈদ্যের বাজার কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার তদারকি করেন। এ সময় পেঁয়াজ, লেবু, তরমুজসহ বিভিন্ন কাঁচামাল অতিরিক্ত দামে বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং পণ্য ক্রয়ের রসিদ দেখাতে না পারার অভিযোগে প্রায় ২০ জন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।

ব্যবসায়ী এবং ক্রেতারা জানায়, প্রশাসনের লোকজন চলে যাওয়ার পর অধিকাংশ ব্যবসায়ী আবার বাজারে আগের অবস্থানে ফিরে যায়। অনেক দোকানেই মূল্য তালিকা টানানো হয়নি। বাজারে লেবুর দাম বেশি রাখার কারণে যাদের জরিমানা করা হয়েছিল, সেটিও আগের দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। তরমুজ বিক্রেতাদের মধ্যেও একই চিত্র দেখা যায়।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গায় রমজানের শুরুতেই বাজার অস্থির। পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গা শহরের কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে হঠাৎ করেই বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। বিশেষ করে সবজির বাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে অনেক পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে শসা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা বেড়ে ১৩০ টাকা কেজি। বেগুন ৫০ থেকে ১০০-১২০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি কাগজি লেবু প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১২০ টাকা হালি, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৩০ টাকা। আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি দরে। সবজির এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরের সদরপুরে প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও লেবু, শসাসহ বিভিন্ন প্রকার ফলের দাম আকাশচুম্বী। নিম্নআয়ের রোজাদাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে বিরাট ফারাক তৈরি হয়েছে তাদের। দোকানিরা যে যেভাবে দাম হাকাচ্ছে, ক্রেতারা সেই দামেই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। নেই প্রশাসনের নজরদারি, নেই ভোক্তা কমিটির তৎপরতা।

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান, রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গ্রামীণ বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম অল্প আয়ের মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। উৎপাদন কম, আমদানি কম, যাতায়াত খরচ বেশি এবং ক্রয়মূল্য বেশি বিধায় বিক্রি বেশিÑএমন সব অযুহাত দাঁড় করিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা লুটে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষদের। আবার অনেক পণ্যের মূল্য নির্ধারিত না থাকায় মনমতো দামে বিক্রি চলছে। প্রতিবছর রমজানে একই চিত্র থাকার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি আগাম প্রস্তুতি। মাসে দু-একটি লোক দেখানো অভিযান বাস্তবে কোনো কাজে আসে না। এদিকে রমজান শুরুর পরও দেখা যায়নি প্রশাসনের কার্যকর কোনো তদারকি। ফলে ভোক্তারা প্রশাসনের নজরদারি ও গাফিলতিকেই দায়ী করছেন। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনীষা আহমেদ জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে রমজানের শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। খাদ্যের সরবরাহ ও মজুতের বিষয়টা নজরদারিতে রয়েছে।

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, রোজা শুরুর আগে থেকেই বিয়ানীবাজারে সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজার। সমানতালে বেড়েছে সব পণ্যের মূল্য। পেঁয়াজ, ছোলা, ডাল, রসুন, সয়াবিন তেল, চিনি, শসা, বেগুন, খেজুর, লেবুসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি পণ্য কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বিয়ানীবাজারের সাধারণ ক্রেতা। বাজার মনিটরিং নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহমান বলেন, শনিবারও বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়েছে।

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা। গতকাল রোববার দুপুরে হোসেনপুর বাজারের সবজি মহল এলাকায় তিনি এ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় ফল, চাল, মাংস ও মসলার দোকানে অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা যাচাই ও বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়।

অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ক্রেতাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা বলেন, রমজানে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে। কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শপথের পর এমপির কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেস্ক পরিদর্শন

চুয়াডাঙ্গায় স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন নিয়ে এমপিদের মতবিনিময়

নড়াইলে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত

জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন-সংকটে ভোগান্তি

খুলনায় ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না দিলে হত্যার হুমকি

যশোরে গুদাম থেকে ৭৭টি আমেরিকান মোটরসাইকেল জব্দ

বাগেরহাটে এমপি মঞ্জুরুল হক রাহাদের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বায়ান্নতে খুলনায় মেয়েদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন মাজেদা আলী

অপহৃত জেলেরা এখনো বন্দি, ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ঝিনাইদহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু